ভালোবেসে প্রতারিত, এক প্রতিবন্ধী তরুণীর কান্না

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ১০:৪২ এএম, ০৪ ডিসেম্বর ২০১৭

ভালোবেসে প্রতারিত হয়েছেন প্রতিবন্ধী তরুণী নুরুন্নাহার। কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর হোয়ানক ইউনিয়নের এ প্রতিবন্ধী তরুণী গার্মেন্টে চাকরি করতে গিয়ে শফিউল আলম নামের এক যুবকের প্রেমে পড়েন।

তাদের প্রেমের সম্পর্ক পরবর্তীতে শারীরিক সম্পর্কে গড়ায়। এ সুযোগে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়ার ইসলাম আহমদের ছেলে শফিউল আলম বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই তরুণীর সঙ্গে দুই মাস সংসার করেন।

দুই মাস পর প্রকাশ পেল আসল তথ্য। জানা গেল, প্রেমিক শফিউল আলমের ঘরে শুধু বউ নয়, তার এক ছেলে ডুলাহাজারা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তখনই সব স্বপ্ন চুরমার হয়ে যায়। সেই সঙ্গে কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই তরুণী। ডাকা হয় সালিশ। সেই সালিশে প্রতিবন্ধী নুরুন্নাহারের ভালোবাসার দাম নির্ধারণ করা হয় মাত্র ২০ হাজার টাকা।

সালিশদাররা সিদ্ধান্ত দেন, যেহেতু শফিউল আলমের ঘরে বউ-বাচ্চা রয়েছে। তাই নুরুন্নাহারের সঙ্গে তার সংসার দীর্ঘস্থায়ী হবে না। আর বিয়ে না করার জন্য শফিউল আলমকে ২০ হাজার টাকা দিতে হবে প্রতিবন্ধী গার্মেন্ট শ্রমিক নুরুন্নাহারকে।

সালিশদার স্থানীয় ইউপি মেম্বার মো. রফিক প্রতারক শফিউল আলমের হয়ে দায়িত্ব নেন। সালিশের পরদিনই ২০ হাজার টাকা বুঝিয়ে দেয়া হবে প্রতারিত নুরুন্নাহারকে। কিন্তু সেই ২০ হাজার টাকা না দিয়েই সটকে পড়েন শফিউল আলম।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ছোট বয়সে পায়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে প্রতিবন্ধী হয়ে পড়া নুরুন্নাহার ভাইদের সংসারে বোঝা হয়ে উঠেছিলেন। সেই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে তিনি মহেশখালী থেকে চলে যান চট্টগ্রাম শহরে। সেখানে গার্মেন্টে চাকরি করে কিছুটা স্বচ্ছলতা আসতে শুরু করে।

চলতি পথে তার ওপর কুদৃষ্টি পড়ে ৩৪ বছর বয়সী শফিউল আলমের। ওই ব্যক্তি প্রেম ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নুরুন্নাহারের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়ায়। এভাবে দুই মাস এক বিছানায় কাটানোর পর বিয়ের অজুহাতে গত ১৮ নভেম্বর তারা চলে আসে চকরিয়ায়।

চকরিয়ায় আসার পর নুরুন্নাহারের দেখা হয় তার দুলাভাই রহমত উল্লাহর সঙ্গে। সবকিছু রহমত উল্লাহকে খুলে বলেন তিনি। পরে রহমত উল্লাহসহ প্রতারক শফিউল আলম নিজের গ্রামের বাড়ি ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের রিংভং এলাকায় আসেন।

পরদিন শফিউল আলমের স্বজনদের কাছে খোঁজ নিতে গিয়ে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে নুরুন্নাহারের। তার প্রেমিকের ঘরে যে অন্য বউ। শুধু বউ নয়, তার এক ছেলে ডুলাহাজারা কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শফিউল আলমকে আটক করে স্থানীয়রা। ওইদিনই বিকেলে উভয়পক্ষের ইউপি সদস্যদের উপস্থিতিতে দুলাভাই রহমত উল্লাহর বাড়িতে সালিশ বসে।

সালিশে শফিউল আলমের হয়ে উপস্থিত ছিলেন তার এক নিকটাত্মীয় সাবেক ইউপি সদস্য ও ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের জয়নাল আবেদীন সোনা মিয়া মেম্বার।

সালিশে খোঁজখবর না নিয়ে প্রেমে জড়ানোয় নুরুন্নাহারকে দোষারোপ করা হয়। তবে বিয়েতে উভয়পক্ষ রাজি থাকলেও সংসারের স্থায়িত্ব নিয়ে সন্দিহান হওয়ায় বিয়ের সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসেন সালিশদাররা।

কিন্তু প্রতারণার অভিযোগে শফিউল আলমের বিরুদ্ধে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করে সালিশ নিষ্পত্তি করা হয়। ওই টাকা প্রতারিত নুরুন্নাহারকে বুঝিয়ে দেয়ার কথা বলে ইউপি সদস্য রফিক সালিশ নিষ্পত্তি করেন।

পরদিন সকাল ১০টার মধ্যে ২০ হাজার টাকা নুরুন্নাহারকে বুঝিয়ে দেয়ার দায়িত্ব নেন ডুলাহাজারা ইউপি মেম্বার সোনা মিয়া। ওই সময় সালিশে উভয়পক্ষ থেকে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়া হয়।

প্রতারিত নুরুন্নাহার ও দুলাভাই রহমত উল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, সালিশের এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও সেই ২০ হাজার টাকা আর পাওয়া যায়নি।

তারা বিষয়টি ডুলাহাজারা ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন ও সালিশদার ইউপি সদস্য রফিককে অবহিত করেন। কিন্তু ওই টাকা আদায়ে ব্যর্থতার কথা জানিয়ে আইনের আশ্রয় নিতে বলেন তারা।

এএম/এমএস/আইআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।