ওসি ও ব্যাংক ম্যানেজারকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ
আদালতের তিন কর্মচারীকে হত্যা চেষ্টার মামলায় গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশের ওসি ও ব্যাংক ম্যানেজারসহ ১০ জনের নামে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ সোমবার সকালে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পৌঁছেছে। তবে এখনো আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
ওসি আহমেদ রাজিউর রহমান ও ব্যাংক ম্যানেজার মো. আয়েশ উদ্দিনকে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ বাধ্যতামূলক ছুটি দেয়ায় তারা নিজ নিজ কার্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন সোমবার।
এদিকে এই খবরটি সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত হলে সবখানে তোলপাড় শুরু হয়। সাংবাদিকরা সোমবার দীর্ঘ সময় ধরে খবরের জন্য অপেক্ষা করেন।
পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে আরো জানানো হয়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সোনালী ব্যাংক গাইবান্ধা শাখায় আদালতের তিন কর্মচারী চেক ভাঙাতে যান। সেখানে তাদের সাথে ব্যাংকে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
সহকারী পুলিশ সুপার ফকরুজ্জামান জুয়েল বলেন, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত ৮ পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয় এবং সদর থানার ওসি আহমেদ রাজিউর রহমানসহ অভিযুক্তদের শোকজ করা হয়। ঘটনা তদন্তে পুলিশ সুপার ওই দিনই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারুক হোসেনকে সভাপতি করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন সহকারী পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) মোহাম্মদ ফকরুজ্জামান জুয়েল ও ডিআইও-১ মাহবুব উল আলম। কমিটি রোববার পুলিশ সুপারের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পুলিশ সদস্যদের সাথে আদালতের তিন কর্মচারীর মধ্যে ব্যাংকের শৃংখলা ভঙ্গ করা নিয়ে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এদিকে আদালতের কর্মচারী কমল চৌধুরী রোববার হত্যা চেষ্টার অভিযোগে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করলে বিচারক গাইবান্ধার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসএম তাসনিকুল হক সদর থানার ওসি ও সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজারসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
অমিত দাশ/এমএএস/আরআই