রাস্তার পাশে সারি সারি মোয়ার দোকান

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পটুয়াখালী
প্রকাশিত: ১১:২৬ এএম, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৭

শীতের শুরুতে ঘরে নতুন ধান। সেই ধান দিয়ে তৈরি মুড়ি, অতঃপর খেজুরের গুড়ের মোয়া কি যে স্বাদের তা না খেলে বুঝা যাবে না। নিজেদের সঙ্গে অতিথির জলখাবারে সুস্বাদু মোয়ার প্রচলন অনেক আগে থেকেই।

এছাড়া বাঙালির এই খাবার রীতি গ্রামের সঙ্গে শহুরে জীবনে এখন আছে। গ্রাম বাংলার এ ঐতিহ্যের মোয়া শীতকালেই বেশি দেখা যায়। সবার কাছে এর চাহিদাও অনেক। তাই এ শীতকে ঘিরে পটুয়াখালীর শহর-গ্রামে চলছে মোয়া বানানোর কাজ।

পটুয়াখালী শহরের মুন্সেফ পাড়া এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ নৈমুল হক মিন্টু। আমেরিকা প্রবাসী। শনিবার সকালে শহরের পুরান বাজার এলাকায় পৌঁছান তিনি। ওইখানে পৌঁছানোর পর যেটা সবার আগে তার নজর কাড়ে তা হলো- রাস্তার পাশে সারি সারি মোয়ার দোকান। এ সময় পবন সাহার মোয়ার দোকানের সামনে বসে তার স্বজনদের বলেন, বিকেলে চায়ের সঙ্গে মোয়া হলে কেমন হয়? স্বজনরা হেসে জবাব দিলেন, বেশ জমবে।

jagonews24

কথা হয় প্রবাসী সৈয়দ নৈমুল হক মিন্টুর সঙ্গে। তিনি জানালেন, নিজেদের সঙ্গে অতিথির খাবারে সুস্বাদু মোয়ার প্রচলন অনেক আগে থেকেই। বাঙালির এ খাবার রীতি গ্রামের সঙ্গে শহুরে জীবনে মিশে আছে। তাই এই দোকানের মোয়া খেলাম এবং বাড়ির জন্য নিলাম।

শহরের নিউ মার্কেট এলাকার মোয়া প্রস্তুতকারী মো. সাইদুল তালুকদার জাগো নিউজকে বলেন, একটা হাঁড়িতে খেজুর গুড় অথবা আখের গুড়ের সঙ্গে পানি দিয়ে তাপ দিতে হয়। যতক্ষণ না এটা ঘন হয়ে আঠালো না হয় ততক্ষণ তাপ দিতে হয়।

যখন এটা আঠালো হয়ে যাবে চুলা থেকে নামিয়ে অন্য পাত্রে মুড়ি জিরা দিতে হয়। নাড়াচাড়া করে গুড়ের সঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে দিতে হয় মুড়ি। পরে হাতের তালুতে সামান্য ঘি মেখে গরম থাকতেই ওই গুড় মুড়ির মিশ্রণ হাতের তালুতে নিয়ে ঘুরিয়ে ভালোভাবে চেপে দিলে হয়ে যায় মজাদার সুস্বাদু মুড়ির মোয়া।

পুরান বাজার এলাকার মোয়া বিক্রেতা পবন সাহা জাগো নিউজকে বলেন, বর্তমানে প্রতিকেজি মোয়া বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। মুড়ির মোয়া মূলত পটুয়াখালীতে তৈরি হলেও বর্তমানে বরিশালসহ কয়েকটি জেলায় মুড়ির মোয়া তৈরি হয়।

jagonews24

সদর উপজেলার জৈনকাঠি এলাকার মোয়া প্রস্তুতকারী মো. শহিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, আমরা পাইকারি ব্যবসা করি। যখন যেমন অর্ডার আসে, তখন সেরকমভাবে তৈরি করে দেয়া হয়। শীত যত জেঁকে বসে, মোয়ার বিক্রিও তত বেড়ে যায়। স্বল্প পুঁজিতে এ ব্যবসা করে আমরা লাভবান হচ্ছি। বিকেলের নাস্তায় ও আড্ডায় মুড়ির মোয়ার যথেষ্ট কদর রয়েছে বলেও জানান তিনি।

শহরের পুরান বাজার এলাকার মুড়ি ব্যবসায়ী কৃষ্ণ সাহা জাগো নিউজকে বলেন, বর্তমানে মোয়া তৈরির জন্য মুড়ির চাহিদা বাড়ছে। অবশ্য মোয়া বিক্রিও ভালো হয়। শীতের তিন মাস এভাবে বিক্রয় হবে।

পুরান বাজার এলাকার মিঠা ব্যবসায়ী গোবিন্দ সাহা জাগো নিউজকে বলেন, শীতে মোয়া তৈরির জন্য অনেক গুড় চলছে। এছাড়া বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে বিভিন্ন মিষ্টি পিঠা তৈরির জন্য মিঠাই কিনছেন ক্রেতারা। তাই বর্তমানে গুড় বিক্রি বেড়েছে বলেও জানান তিনি।

মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/এএম/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।