চাঁদপুরে তৃতীয় দফা আলু চাষিদের বিপর্যয়
দু’দফা বিপর্যয়ের পর আবারও আলু চাষিরা বিপর্যয়ে পড়েছে। গত দু’দিনের গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে আলু ক্ষেতে পানি জমে যাওয়ায় সদ্য রোপনকৃত হাজার হাজার হেক্টর জমির আলুর বীজের অধিকাংশই পঁচে গেছে। এতে কৃষকের মাথায় হাত।
গত মৌসুমে অবিরাম বর্ষণে আলু ক্ষেতে পানি জমে উৎপাদিত আলু পঁচে নষ্ট হয়ে একদফা বিপর্যয় হয়, অপরদিকে আলুর দাম না পাওয়ায় হিমাগারেই আলু ফেলে রাখে কৃষক। এতেও দ্বিতীয় দফা তাদের বিপর্যয় হয়। তাই প্রচুর অর্থ ব্যয় করে তারা এবার জমিতে আলু রোপন করেছে, গত দু’দফা বিপর্যয়ের ক্ষতি পুঁষিয়ে নিতে। কিন্তু এবারও হঠাৎবৃষ্টিতে তাদের সব আশা ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সরকারের সহায়তা চেয়েছে। তা না হলে এসব কৃষকরা আর উঠে দাঁড়াতে পারবে না বলে তাদের অভিমত।
চাঁদপুর সদর উপজেলায় ২ হাজার ১শ হেক্টর জমিতে আলু রোপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ যাবৎ ১ হাজার ৮০ হেক্টরে আলুর বীজ রোপন করা হয়েছে। গত কয়েক দিনের গুঁড়ি গুঁড়ি বর্ষণে রোপনকৃত আলুর মধ্যে ৯২২ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব জমির আলু বীজ পঁচে যাবে ও নতুন করে আলু বীজ লাগাতে হবে বলে কৃষকরা জানিয়েছে।
তারা অনেক টাকা ব্যয় করে এবার আলু লাগিয়েছে। তাদের দাবি সরকার আলু চাষে এবার সহায়তা না দিলে কৃষকরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অনেকে আবার আলু চাষ ছেড়ে দিবে বলেও জানিয়েছেন।
চাঁদপুর সদর উপজেলা কৃষি অফিসার দিল আতিয়া পারভিন জাগো নিউজকে জানান, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সদরের ৯৮০ হেক্টর জমির রোপনকৃত আলু পানিতে তলিয়ে গেছে। এ অবস্থায় জমিতে পানি দ্রুত সরিয়ে দিতে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
কচুয়া উপজেলায় টানা তিনদিনের গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে আলু চাষিদের আবারও মাথায় হাত পড়েছে। কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর কচুয়ায় ৩ হাজার ৯৭৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর বীজ বপন করা হয়েছে। কিন্তু বৃষ্টির পানি জমে বপনকৃত আলুর বীজ ও প্রয়োগকৃত সার সবই বিনষ্ট হয়ে গেছে।
কেবল মাত্র বীজই বিনষ্ট হয়েছে প্রায় ৬ লক্ষ টাকার। এছাড়া ইরি বোরো ধানের বীজতলা, ধনিয়া, মুলা, লাল শাক, মরিচ, লাউ, কুমড়া ইত্যাদি শাক সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
কচুয়া উপজেলা কৃষি অফিসার আহসান হাবিব জাগো নিউজকে জানান, গত মৌসুমে ৪ হাজার ৩ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়। কিন্তু মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে পর পর কয়েক দিনের টানা বর্ষণে ৯০ ভাগেরও বেশি আলু বিনষ্ট হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা বড় রকমের আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়। এবার তিন দিনের বৃষ্টিতে কচুয়ার অধিকাংশ আলু ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যায়। তবে ক্ষয়ক্ষতি এখনও নির্ণয় করা হয়নি।
মতলব দক্ষিণে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ২ হাজার ২শ হেক্টর জমির রোপনকৃত আলু পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষকরা এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মতলব দক্ষিণ কৃষি অফিসার মো. তাজুল ইসলাম জাগো নিউজকে জানান, বৃষ্টিতে ২ হাজার ১শ হেক্টর জমির রোপনকৃত আলু পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে বৃষ্টি কমার পর পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।
হাজীগঞ্জে এ পর্যন্ত ৩৪০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ৩শ হেক্টর জমির রোপনকৃত আলু পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা সরকারের সহায়তা চেয়েছে।
হাজীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নয়ন মনি সূত্রধর জাগো নিউজের কাছে ক্ষতির এ তথ্য স্বীকার করেছেন।
ইকরাম চৌধুরী/এমএএস/আরআইপি