কণ্ঠশিল্পী মমতাজের ভাইয়ের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মানিকগঞ্জ
প্রকাশিত: ০২:৪৮ পিএম, ১২ ডিসেম্বর ২০১৭

 

মানিকগঞ্জের সিংগাইরের সংসদ সদস্য ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের ভাইয়ের বাসা থেকে স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধারের ৫ দিন পর হত্যা মামলা হয়েছে। মামলায় মমতাজের ভাই এবারত হোসেনসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে মানিকগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪ এ ঝুমার বাবা রিয়াজুল শেখ বাদী হয়ে এ মামলা করেন। অভিযোগটি আমলে নিয়ে সিঙ্গাইর থানাকে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালতের বিচারক শাকিল আহম্মেদ।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- এবারতের স্ত্রী ফরিদা বেগম ও ছেলে ফিরোজ। বিচারক শাকিল আহম্মেদ সিংগাইর থানাকে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন।

সিংগাইরের ধল্লা গ্রামের প্রান্তিক কৃষক রিয়াজুল শেখের মেয়ে ৫ম শ্রেণির ছাত্রী ঝুমা আক্তার এমপি মমতাজের ভাই এবারতের বাসায় প্রায় তিন বছর ধরে আশ্রিত হিসেবে থাকতো।

এবারতও গান-বাজনার সঙ্গে জড়িত। গত বৃহস্পতিবার এবারত হোসেনের ছেলে ফিরোজের ঘরের সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় ঝুমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ঝুমা এবারতের বাড়িতে গৃহকর্মীর পাশাপাশি লেখাপড়া ও গান-বাজনা শিখতো। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ঝুমাকে নিয়ে যেতেন এবারত।

নিজের বাড়িতেও গান-বাজনার সঙ্গে মদ ও মেয়েদের আড্ডা বসাতেন এবারত। ঝুমাকে এ আড্ডায় যোগ দিতে চাপ দিতেন এবারত ও তার স্ত্রী। কিন্তু এতে রাজি ছিল না ঝুমা।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, এবারত হোসেন ও তার ছেলে ফিরোজ ঝুমার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালাতো। বিষয়টি প্রকাশ করে দেবে এমন আশঙ্কায় পরিকল্পিতভাবে ঝুমাকে হত্যা করা হয়েছে।

এদিকে, এবারতের বোন সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের প্রভাব খাটিয়ে হত্যাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ঝুমার পরিবারের।

কিন্তু যে ঘর থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে সেই ঘরের দরজা খোলা থাকা এবং ঝুমার পা চেয়ারে ঠেকানো অবস্থায় পাওয়া, মরদেহের ঘাড় পেছনের দিকে বাঁকানো অবস্থায় থাকায়- এটাকে হত্যা বলে নিশ্চিত হওয়া যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া ঘটনার পর ফরিদা বেগম ও ফিরোজ বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ায় হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি আরও বেশি করে স্পষ্ট হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিংগাইর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা জানা যাবে। এর বেশি মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

বি.এম খোরশেদ/এএম/আইআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।