অযোগ্য চাল সরবরাহ করলেন সেই ব্যবসায়ী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি কুষ্টিয়া
প্রকাশিত: ০৪:১১ পিএম, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ০২:৩১ এএম, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭

খাবার অযোগ্য চাল সরকারি গুদামে সরবরাহ করায় চাল সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা বাংলাদেশ চালকল মালিক সমিতির সভাপতি কুষ্টিয়ার সেই আলোচিত চাল ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদের চাল ফেরত পাঠিয়েছে খাদ্য বিভাগ। সোমবার রশিদ অ্যাগ্রো ফুডের মালিক আব্দুর রশীদের দেয়া প্রায় ৬০ মেট্রিক টন চাল গ্রহণ না করে গুদামের গেট থেকেই ফেরত পাঠিয়ে দেয় খাদ্য বিভাগ।

সূত্র জানায়, কুষ্টিয়া জেলায় এবার সরকারিভাবে ১১ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন আমন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে জেলা খাদ্য বিভাগ। এই লক্ষ্যমাত্রার প্রায় অর্ধেক ৫ হাজার মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের কথা রয়েছে এই আলোচিত চাল ব্যবসায়ীর। সারা দেশের মত কুষ্টিয়াতে শুরু হয়েছে আমন মৌসুমে চাল সংগ্রহ অভিযান। গত ১০ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এ অভিযান শুরু হলেও চালকল মালিকরা যে চাল সরবরাহ করছে তার মান অত্যন্ত নিম্নমানের। এরই মধ্যে চালের মান যাচাই করে নিন্মমানের চাল ফেরত দেয়ারও ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দুপুরে জগতি ও সদর খাদ্য গুদামে চার ট্রাক চাল (৬০ মেট্রিক টন) ফেরত পাঠিয়েছে খাদ্য বিভাগ।

জগতি খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদুর রহমান জানান, দুপুরে রশিদ অ্যাগ্রো ফুডের পক্ষ থেকে দুই ট্রাকে প্রায় ৩০ মেট্রিক টন চাল গুদামে খালাসের সময় চালের গুনগত মান খারাপ হওয়ায় তা ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই অভিযোগে আরও দুই ট্রাক চাল সদর উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকেও ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির। এর আগেও ভাঙা ও নিম্নমানের চাল সরবরাহের অভিযোগে তা ফেরত দেয়া হয়।

এর আগে অভিযান শুরুর পরের দিন গত শনিবার লিয়াকত অ্যাগ্রো ফুডের এ রকম খাবার অযোগ্য প্রায় ১৫ টন চাল ফেরৎ পাঠায় খাদ্য বিভাগ।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তানভীর রহমান জানান, গুনগত মান যাচাই-বাছাই করে চাল সংগ্রহ করা হচ্ছে মিলারদের কাছ থেকে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। চলতি আমন মৌসুমে কুষ্টিয়ায় ৩৯ টাকা কেজি দরে ১১ হাজার ৮০০ মেট্রিকটন চাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যা গত বোরো মৌসুমে থেকে ছয় হাজার মেট্রিকটন কম।

সূত্র জানায়, গত মাস দুয়েক আগে কুষ্টিয়াসহ সারাদেশে হঠাৎ করেই চালের দাম কেজি প্রতি ২ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে- দেশের চাল সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা বাংলাদেশ চালকল মালিক সমিতির সভাপতি কুষ্টিয়ার আলোচিত চাল ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে ধান সংকটের ধুয়া তুলে দফায় দফায় চালের দাম বাড়িয়ে দেন।

পরে খাদ্যমন্ত্রীর নির্দেশে প্রশাসন রশিদকে গ্রেফতারের জন্য কুষ্টিয়ার খাজানগর এলাকায় অভিযান চালায়। একই সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে রশিদের দুটি গোডাউনে বিপুল পরিমাণ চাল মজুদের প্রমাণ পান। ভ্রাম্যমাণ আদালত রশিদের মিলে জরিমানা আদায় করেন। এ ঘটনায় সারা দেশে তোলপাড় শুরু হয়। চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাদ্যমন্ত্রী একাধিকবার চালকল মালিক, ব্যবসায়ী ও নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন।

আল-মামুন সাগর/আরএআর/আইআই

আপনার মতামত লিখুন :