চিচিঙ্গা চাষে লোকসানের মুখে কৃষকরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি জামালপুর
প্রকাশিত: ০২:৫৩ পিএম, ২০ ডিসেম্বর ২০১৭

বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিস্তীর্ণ চরে ব্যাপকহারে চিচিঙ্গা চাষ করেছেন জামালপুরের কৃষকরা। গেলো বছর চিচিঙ্গা চাষ করে লাভবান হওয়ায় এবার আরও বেশি জমিতে চিচিঙ্গার চাষ করেছেন তারা। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া আর নিম্নমানের কীটনাশক প্রয়োগ করার ফলে কৃষকরা লাভের বদলে লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন।

চলতি বছরে দুই দফা বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে জামালপুর সদর, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ, ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ এবং সরিষাবাড়ী উপজেলায় যমুনা এবং ব্রহ্মপুত্র তীরবর্তী বিস্তীর্ণ চরে ব্যাপকহারে চিচিঙ্গা চাষ করেছেন জামালপুরের কৃষকরা। গেলো বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চিচিঙ্গার উৎপাদন ভালো হয়েছে। এতে বেশ লাভবান হয়েছেন চিচিঙ্গাচাষিরা। তাই অধিক লাভের আশায় এবার আরও বেশি জমিতে চিচিঙ্গা চাষ করেছেন কৃষকরা। তবে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় একদিকে যেমন উৎপাদন কম হয়েছে অন্যদিকে পোকার আক্রমণ ঠেকাতে প্রয়োগকৃত কীটনাশক কাজ না করায় ফলনও হচ্ছে কম। বীজ লাগানোর পর থেকেই অতিরিক্ত ঝড়, বৃষ্টি আর তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে ফুলের স্বাভাবিক পরাগায়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় চিচিঙ্গার উৎপাদন কম হয়েছে। এতে আশানুরুপ ফলন না পাওয়ায় লাভের পরিবর্তে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন কৃষকরা।

jamalpur-pic-1

কৃষকরা বলছেন- চিচিঙ্গা চাষ করে লাভ তো দূরের কথা খরচের টাকা ওঠানোই কঠিন হয়ে যাবে।

লক্ষ্মীরচর গ্রামের কৃষক মেহের সেখ জানান, গত মৌসুমে ৫ একর জমিতে ৩০ হাজার টাকা খরচে চিচিঙ্গা চাষ করে প্রায় এক লাখ টাকা বিক্রি করেছেন। সেই লাভের আশায় এ বছর ৭ একর জমিতে চিচিঙ্গা চাষ করেছেন। কিন্তু ফলন ভালো হয়নি।

jamalpur-pic-1

বারুয়ামী গ্রামের চিচিঙ্গাচাষি ইদ্রিস আলী বলেন, অসময়ে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় বেশিরভাগ চিচিঙ্গার গাছ মরে যায়। পরে আবার নতুন করে বীজ লাগালেও গাছে ফুল আসার পর পোকার আক্রামণ ঠেকাতে বিষ প্রয়োগ করলেও সেগুলো কাজে আসেনি। এখন ফলন ফালো না হওয়ায় লাভের কোনো আশা নেই। কোন রকমে খরচ উঠাতে পারলেই হলো।

গেলো বছর জামালপুর জেলায় চিচিঙ্গা চাষ হয়েছিল ২৮৭ হেক্টর জমিতে আর উৎপাদন হয়েছিল ৩ হাজার ৩২৮ মেট্রিক টন। এই বছর ৩৫০ হেক্টর জমিতে চিচিঙ্গার আবাদ হয়েছে।

jamalpur-pic-1

জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, চিচিঙ্গার আগাম চাষ করায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় উৎপাদন কম হয়েছে। তবে আশানুরুপ ভালো ফলন পেতে কৃষি অধিদফতরের মাঠকর্মীরা কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

শুভ্র মেহেদী/আরএআর/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :