মহেশখালীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে যুবলীগকর্মীকে হত্যা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০২:০৮ এএম, ০৯ জানুয়ারি ২০১৮

কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক যুবলীগকর্মীকে গুলি ও জবাই করে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ। অাধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। মহেশখালীর হোয়ানক কালাগাজীর পাড়া বাজারে সোমবার রাত ৯টার দিকে এ হত্যার ঘটনা ঘটে।

নির্মম হত্যার শিকার নুরুল অাবছার (২৮) মহেশখালীর হোয়ানক ইউনিয়নের কালাগাজীর পাড়া গ্রামের মৃত অাবুল কালামের ছেলে। এ ঘটনায় ইসমাইল (২৫) নামের অপর এক যুবক গুলিবিদ্ধসহ তিনজন অাহত হয়েছেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, এলাকায় অাধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কালাগাজীর পাড়া গ্রামের জালাল ও আইয়ুব আলী বাহিনীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও খুনাখুনি চলে অাসছিল। এ নিয়ে ইতোপূর্বে মহেশখালী থানার এসঅাই পরেশ কুমার কারবারীসহ অর্ধডজনের অধিক লোক খুন হন। এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমাতে ওই এলাকায় অস্থায়ী একটি পুলিশ ক্যাম্পও বসানো হয়েছে।

সর্বশেষ সোমবার রাত ৯টার দিকে প্রতিপক্ষ জোনাব আলী ও আইয়ুব আলী গ্রুপের ২০-২৫ জন স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী অতর্কিতভাবে প্রকাশ্য কালাগাজীর পাড়া বাজারের মনু সওদাগরের চায়ের দোকানে ঢুকে প্রতিপক্ষ জালাল গ্রুপের নুরুল আবছারকে গুলি ও জবাই করে ঘটনাস্থলেই খুন করে পালিয়ে যায়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন জানান, সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে এসে ৫-৭ মিনিটের মধ্যে অজস্র গুলিবর্ষণ করে বাজারে ত্রাস সৃষ্টি করে দোকানে ঢুকে অাবছারকে খুন করে চলে যায়। ঘটনাস্থলের মাত্র ১শ গজ দক্ষিণে পুলিশের ক্যাম্প থাকলেও সন্ত্রাসীরা তা পরোয়া করেনি। পুলিশ ঘটনাস্থলে অাসার অাগেই তারা মিশন শেষ করে চলে যায়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ প্রদীপ কুমার দাশ ঘটনাস্থলে থেকে মরদেহ উদ্ধার করেন।

তিনি জানান, এই এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা ও উভয় গ্রুপের মধ্যে পরস্পরের সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে ওখানে গত মাস দেড়েক অাগে থেকে একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প বসানো হয়েছে। এর মাঝেও প্রকাশ্য বাজারে এসে চোরাগুপ্তা হামলা করেছে সন্ত্রাসী জোনাব অালী ও অাইয়ুব গ্রুপ। পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। এছাড়া অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, মূলত এলাকায় জোনাব আলী ও জালাল বাহিনীর আধিপত্যকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

সায়ীদ আলমগীর/বিএ

আপনার মতামত লিখুন :