ঘন কুয়াশার সঙ্গে হিমেল হাওয়া, সপ্তাহজুড়ে দেখা যায়নি সূর্য

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৫:৩৭ পিএম, ১০ জানুয়ারি ২০১৮
ঘন কুয়াশার সঙ্গে হিমেল হাওয়া, সপ্তাহজুড়ে দেখা যায়নি সূর্য

সিরাজগঞ্জে জেঁকে বসেছে হাড় কাঁপানো শীত। সেইসঙ্গে ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়া বইছে। সপ্তাহজুড়েই এ শীত ও ঘন কুয়াশার প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে।

জেলার গ্রাম ও চরাঞ্চলের হাজার হাজার দুস্থ-অসহায় পরিবারসহ রেলওয়ে স্টেশন, খোলা মাঠ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাসা-বাড়ি ও অফিস-আদালতের বারান্দাসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়া ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। শীতবস্ত্রের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। ঘন কুয়াশার কারণে সূর্যের মুখ দেখা যায়নি সপ্তাহজুড়ে।

এদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলার বিভিন্ন স্থানে গরীব ও অসহায় পরিবারের মধ্যে শীত নিবারণের জন্য কম্বল বিতরণ করলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে শীতের প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় সিরাজগঞ্জ জেলা ও উপজেলাসহ বিভিন্ন হাট বাজারে পুরাতন কাপড়সহ কম্বল, লেপ-তোষক তৈরি ও বিক্রি বেড়েছে। মৌসুমী ব্যবসায়ীরাও নিজেদের মতো করে শহরের রাস্তার পাশের ফুটপাতে জায়গা দখল করে শীতবস্ত্র বিক্রি করছেন। শীতকে বরণ করে নেয়ার জন্য এখন তৈরি সবাই। এ সমস্ত ব্যবসায়ীরা ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে বিদেশি পুরান কাপড়ের গাইট এনে শীতের মৌসুমে বিক্রি করেন।

শহরের পৌরসভা হকার মার্কেট ও রাস্তার পাশে ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা প্রস্তুত শীতের পুরাতন (গাইট) পোশাক বিক্রির জন্য। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষদের এ কাপড়ের চাহিদা অনেক বেশি।

কারণ তাদের বেশি দামে কাপড় কেনার সামর্থ্য নেই। তাই পুরাতন কাপড়ের দিকেই ঝুঁকে পড়ছেন সিরাজগঞ্জের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষরা। শীতের হাত থেকে নিজেদের বাঁচাতে সকল শ্রেণির মানুষ শীত নিবারণের গরম কাপড় কিনছেন।

SIRAJGONG-PHOTO-(2)

সিরাজগঞ্জ পৌরসভার হকার্স মার্কেটসহ শহরের ফুটপাতের দোকানগুলোয় প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নিম্নআয়ের মানুষের ভিড় লেগে থাকে। দেখা মেলে উচ্চবিত্তদেরও। ফুটপাতে বড়দের একটি সাধারণ সোয়েটারের দাম ১০০ থেকে ৫০০ টাকা, শিশুদের কাপড় ৩০ থেকে ১৫০, মাফলার ৫০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

হকার্স মার্কেটে আসা ক্রেতা এস এম আলমগীর হোসেন, জিয়াউল ইসলাম ও আসলাম সেখ জানান, হাড় কাপাঁনো শীত শুরু হয়েছে। এ জন্য গরম কাপড় কিনতে এসেছি। এখানে গরম কাপড়ের দাম একটু কম। বেল কাটা গরম কাপড় অনেক সময় নতুনের চেয়েও ভালো হয়।

রিকশাচালক সোহরাব হোসেন বলেন, আমি সারাদিন রিকশা চালাই। গত কয়েকদিন কনকনে শীত পড়েছে। এ মার্কেটে পুরাতন কাড়ের দাম কম হওয়ায় কিনতে এসেছি।

সিরাজগঞ্জ পৌর হকার্স মার্কেটের পুরাতন কাপড় ব্যবসায়ী মিনহাজুল ইসলাম জানান, শীতের প্রকোপ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতি বছর চট্টগ্রামের জহুর হকার্স মার্কেট থেকে বিদেশি পুরাতন কাপড়ের (গাইট) কিনে সিরাজগঞ্জে এনে বিক্রি করা হয়। গাইট খোলার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি শুরু হয় পুরাতন বিভিন্ন রকমের কাপড়। এ বছর আমদানি করা পুরাতন কাপড়ের দাম একটু বেশি হওয়ায় বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

শহরের নিউ বগুড়া রোডে লেপ তৈরি করতে আসা মেরিনা জাহান শাপলা জানান, এবছর লেপ-তোষকের দাম অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি। অতিরিক্ত খরচ বহন করা সত্যিই কষ্টের। তবুও করার কিছু নেই। শীত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য লেপ তৈরি করতে হবে।

শহরের লেপ ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম জানান, লেপ তৈরিতে ব্যবহৃত জুম বা আটি তুলার দাম গত বছরের চেয়ে প্রতি কেজিতে ৩৫-৪০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। সি-পল তুলার প্রতি কেজিতে ২০-২৫ টাকা বেড়েছে।

এছাড়া লেপ তৈরির জন্য ব্যবহৃত প্রতি গজ শালু কাপড় বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকা দরে। সব কিছুর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তৈরিকৃত লেপ-তোষক বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এএম/জেআইএম