সড়ক উন্নয়নের বলি ৪ হাজার গাছ
চারপাশে কেবল কুড়াল আর করাতের শব্দ। একের পর এক গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। তা খণ্ড করে শ্রমিকরা রাখছেন রাস্তার দুই পাশে। হেমায়েতপুর-সিংগাইর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের উন্নয়নের কাজ বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৪ হাজার গাছ বিক্রি করে দিয়েছে জেলা পরিষদ। নানা প্রজাতির এ গাছ কেটে নিচ্ছে ঠিকাদারের লোকজন।
এদিকে গাছগুলো সামাজিক বনায়নের আওতায় স্থানীয় বাসিন্দারা রোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করলেও তাদের না জানিয়েই গাছ বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তিভোগীদের অভিযোগ চুক্তি অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য অংশ বুঝিয়ে না দিয়েই গাছ কেটে নেয়া হচ্ছে।
মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদ রাস্তার গাছ টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করলেও এগুলো সামাজিক বনায়নের গাছ ছিল বলে জানা গেছে। সিংগাইরের গেরাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা রজ্জব আলী ও সোবহান মিয়াসহ স্থানীয়রা জানান, ১৯৯১ সালে বেসরকারি সংস্থা প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের উদ্যোগে ১০টি পুরুষ ও মহিলা সমিতির সদস্যরা উপজেলার জয়মন্টপ থেকে ডেপলতলি পর্যন্ত কয়েক হাজার গাছ রোপণ করেন।

সিংগাইর উপজেলা পরিষদ থেকে লিজ এনে সমিতির দুই হাজার সদস্য নিজ খরচে এই গাছ রোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী সমিতির সদস্যরা লাভের ৬০ ভাগ অংশের মালিক। বাকি ৪০ ভাগের মধ্যে বাস্তবায়নকারী সংস্থা প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র ২০ ভাগ এবং সিংগাইর উপজেলা পরিষদ ২০ ভাগ অংশের মালিক। কিন্তু তাদের কারোরই প্রাপ্য বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। সমিতির সদস্যরা গাছ কাটতে বাধা দিলেও তাদের ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দেয়া হয়। চুক্তিপত্রের দলিল নিয়ে তারা উপজেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদ কর্মকর্তাদের কাছে ঘুরলেও তাদের পাত্তা দেয়া হচ্ছে না বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।
জেলা পরিষদ সূত্র জানায়, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিকল্প হিসেবে হেমায়েতপুর-সিংগাইর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কটি দুই লেনে উন্নিতকরণের কাজ শুরু হয়েছে। এ কারণে রাস্তার দুই পাশের সকল গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়। দরপত্রের মাধ্যমে ৩ হাজার ৭২৬টি গাছ চারজন ঠিকাদার কিনে নিয়েছেন। ভ্যাটসহ যার মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা।
সিংগাইর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবিদুর রহমান রোমান জাগো নিউজকে জানান, গ্রামের হত দরিদ্র নারী-পুরুষ ভবিষ্যতের আশায় গাছগুলো রোপণ করেছিলেন। অথচ তাদের না জানিয়ে এবং প্রাপ্য অংশ বুঝিয়ে না দিয়েই গাছ বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, চুক্তিপত্র অনুযায়ী উপজেলা পরিষদও লাভের ২০ ভাগের মালিক। অথচ গাছ বিক্রির আগে ও পরে জেলা পরিষদ থেকে তাকে কিছুই জানানো হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনোয়ার হোসেন জানান, উপযুক্ত প্রমাণসহ কেউ দাবিদার থাকলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
নির্বিচারে গাছ কেটে ফেলার বিষয়ে তিনি বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ রাস্তার দুইপাশই সম্প্রসারণ করবে। গাছ না কেটে কোনো উপায় নেই। সম্প্রসারণের পর দুই পাশে আবারও গাছ রোপণ করা হবে বলে জানান তিনি।
খোরশেদ/এফএ/পিআর