দুর্গন্ধ দূষণে নাকাল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি গাজীপুর
প্রকাশিত: ০৩:২২ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০৩:৪৮ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০১৮
দুর্গন্ধ দূষণে নাকাল

শিল্প-কারখানা অধ্যুষিত গাজীপুর মহানগরীতে প্রয়োজনের তুলনায় পাবলিক টয়লেট না থাকায় চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন পথচারীরা। বিশেষ করে জনবহুল চান্দনা চৌরাস্তা, ভোগড়া বাইপাস, কোনাবাড়ি, কাশিমপুর, টঙ্গী এবং জেলা প্রশাসন ও আদালত এলাকাগুলোতে এ দুভোর্গ চরমে। চান্দনা চৌরাস্তার জাগ্রত চৌরঙ্গীর চারপাশে সন্ধ্যার পর শত শত লোক প্রাকৃতিক কাজ সম্পাদন করেন। রাত ১০টার দিকে পুরো এলাকা প্রস্রাবের দুর্গন্ধে দূষিত হয়ে পড়ে। তাদের নিষেধ করার কেউ নেই।

নগরীর চান্দনা চৌরাস্তা এবং ভোগড়া বাইপাস গাজীপুরের অন্যতম জনবহুল দুইটি ব্যাস্ত এলাকা। এ দুই স্থানের আশপাশে ২০-২২টি সরকারি বেসরকারি স্কুল-কলেজ, ব্যাংক-বীমা, কয়েকটি মার্কেট, বিশাল কাঁচাবাজার, সরকারি ও বিভিন্ন এনজিওর অফিস এবং শতাধিক শিল্প-কারখানা রয়েছে। এসব স্থান হয়ে প্রতিদিন গাজীপুর জেলার ৫টি উপজেলাসহ উত্তরাঞ্চলের ১১০টি রুটের যাত্রীরা বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন। এসব রুটের যাত্রীরা চান্দনা চৌরাস্তা, কোনাবাড়ি, বোর্ডবাজার, বড়বাড়ি, কলেজগেট ও টঙ্গীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম স্থানে নামেন। নামার পর তাদের প্রাকৃতিক কাজ সম্পাদনের কোনো স্থান নেই। এতে শিশু ও নারীরা বেশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন।

তা ছাড়া চৌরাস্তা হয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করেন জেলা প্রশাসন ও আদালতে আসা লোকজনও। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এ এলাকায় পাবলিক টয়লেট না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। সবচেয়ে বেশী সমস্যা হচ্ছে নারী ও বয়স্কদের।

চান্দনা চৌরাস্তার প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উল্কা সিনেমা হলের কাছে ব্যক্তি উদ্যোগে নির্মিত একটি পাবলিক টয়লেট থাকলেও অনেকে তা জানেন না। এ ছাড়া চান্দনা চৌরাস্তা থেকে পাবলিক টয়লেটটি দূরে। এ কারণে বাধ্য হয়ে অনেকে প্রকাশ্যে আশপাশে মলমূত্র ত্যাগ করছেন। ফলে পথচারীদের নাকে-মুখে রুমাল চেপে চলাচল করতে হচ্ছে।

জনদুর্ভোগ এখানেই শেষ নয়। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর চন্দ্রা ত্রিমোড় ও কোনাবাড়ি এবং কাশিমপুর এলাকাতেও কোনো পাবলিক টয়লেট নেই। একইভাবে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভোগড়া থেকে টঙ্গী বাজার বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত কোথাও কোনো পাবলিক টয়লেট নেই। তবে টঙ্গী মিলগেট এলাকায় একটি পাবলিক টয়লেট থাকলেও সেটি ট্রাকচালক-শ্রমিকদের দখলে।

gazipur

ঢাকা-শেরপুর রুটে চলাচলকারী একটি পরিবহনের চালক আলম হোসেন জানান, চলতি পথে প্রায়ই যাত্রী ও তাদের টয়লেটে যাওয়ার প্রয়োজন হয়। পাবলিক টয়লেট না থাকায় তখন বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। অনেকে বাধ্য হয়ে মহাসড়কের পাশে নির্জন স্থানে বাস থামিয়ে প্রাকৃতিক কাজ সারেন। তবে নারী যাত্রীদের ক্ষেত্রে কোনো পেট্রল পাম্প কিংবা বাসাবাড়ির পাশে দাঁড়াতে হয়।

এ ব্যাপারে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর জানান, চান্দনা চৌরাস্তায় আগে পাবলিক টয়লেট ছিল। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীত করার জন্য তা ভেঙে ফেলা হয়। এখন বিআরটি প্রকল্পের কাজ চলছে। ওই কাজ শেষ না হলে স্থান নির্বাচন করা যাচ্ছে না। বিআরটি প্রকল্পের কাজ শেষ হলে চৌরাস্তায় পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হবে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে শিগগিরই একটি পাবলিক টয়লেট নির্মাণের কাজ শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

গাজীপুরের মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নান জানান, নির্বাচত হয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিয়েছিলেন। মিথ্যা মামলায় জেলে যাওয়ার পর ওইসব প্রকল্প আর আলোর মুখ দেখেনি। সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণের পর আবার ওইসব স্থানে পাবলিক টয়লেট স্থাপনের জন্য স্থান নির্বাচন ও প্রকল্প তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন।

মো. আমিনুল ইসলাম/এনএফ/পিআর