গাছ কাটা বন্ধে বিকল্প উদ্যোগ চান আন্দোলনকারীরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৫:০২ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০১৮

যশোর রোডের ২ হাজার ৩১২টি গাছ কাটার সিদ্ধান্ত হাইকোর্ট ৬ মাসের জন্য স্থগিতাদেশ দেয়ায় স্বস্তি ফিরেছে গাছ রক্ষার দাবিতে আন্দোলনকারীদের মাঝে।

বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট এ স্থগিতাদেশ দেন। তবে আন্দোলনকারীরা সাময়িক স্থগিতাদেশ নয়, কর্তন নিষিদ্ধের স্থায়ী আদেশ চান। আর এ ছয় মাসের মধ্যে গাছ রেখে বিকল্প উপায়ে মহাসড়ক সম্প্রসারণ কাজ করারও তাগিদ দিয়েছেন তারা।

আন্দোলনকারীদের দাবি, গাছগুলো সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ ও বিকল্প উন্নয়ন চিন্তার পরিকল্পনা নেয়া হোক।

যশোরের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গত ৬ জানুয়ারি এক সভায় তিনজন সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসকসহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে যশোর রোড (যশোর-বেনাপোল) মহাসড়ক প্রস্থকরণে ২ হাজার ৩১২টি গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

কিন্তু এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ক্ষোভ দানা বাঁধতে শুরু করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও গাছ কাটার প্রতিবাদে সরগরম হয়ে ওঠে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, জাহাঙ্গীরনগর, যশোরে গাছ রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট আগামী ৬ মাসের জন্য গাছ কাটার সিদ্ধান্ত স্থগিতের আদেশ দিয়েছেন। আদালতের রায়ে স্বস্তি ফিরেছে আন্দোলনকারীদের মাঝে। তবে তাদের দাবি স্থায়ীভাবে গাছ রক্ষা করা হোক।

আন্দোলনকারীদের একজন জন-উদ্যোগের আহ্বায়ক আরএম খায়রুল উমাম বলেন, মহাসড়কের জায়গা যারা দখল করে আছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। কারণ দখলকারীরা সোচ্চার রয়েছে। আর গাছগুলো নীরব আছে। এ জন্য গাছগুলো কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আদালত গাছ কাটার সিদ্ধান্ত ৬ মাসের জন্য স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে সরকারের উচিত বিকল্প চিন্তা করে গাছগুলো রক্ষা করা। মুক্তিযুদ্ধে স্মৃতিস্মারক হিসেবে যশোর রোডের গাছগুলো সংরক্ষণ করা জরুরি। একই সঙ্গে যশোর রোডের নামকরণ পুনরুজ্জীবিত করা হোক।

যশোর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি হারুন অর রশিদ বলেন, সচেতন নাগরিকদের আন্দোলনের ফলে আদালত গাছ কাটায় স্থগিত আদেশ দিয়েছেন। এ জন্য ধন্যবাদ জানাই। তবে ছয় মাসের নয়, স্থায়ীভাবে স্থগিত আদেশ দিয়ে গাছ সুরক্ষার ব্যবস্থা করলে আরও ভালো হবে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী রাস্তা গাছ ও জলাশয় ধ্বংস করা যাবে না। সেই আইন অনুযায়ী যশোর রোডের গাছ কাটতে পারবে না কেউ। আদালত সেই বিষয়টিই আমলে নিয়েছেন বলে আমার বিশ্বাস।

তিনি আরও বলেন, ভারতে গাছ রেখেই মহাসড়ক সম্প্রসারণ করা হয়েছে। তাহলে আমাদের দেশে কেন সম্ভব নয়। আমরা তো কল্পনাপ্রসূত দাবি করছি না। আমরা চাই গাছ রেখেই মহাসড়ক সম্প্রসারণ করা হোক।

মিলন রহমান/এএম/আইআই

আপনার মতামত লিখুন :