গাসিক নির্বাচনে মাঠে নেমেছে প্রার্থীরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি গাজীপুর
প্রকাশিত: ০৮:০৯ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০১৮
গাসিক নির্বাচনে মাঠে নেমেছে প্রার্থীরা

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসছে। ৩২৯ দশমিক ৯০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ বিশাল সিটি কর্পোরেশনের আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনী প্রস্তুতি চলছে। বিশেষ করে বিএনপির চাইতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের তৎপরতা সবচেয়ে বেশি লক্ষণীয়।

আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে প্রচার প্রচারণায় এগিয়ে আছেন গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম। সম্প্রতি তিনি দলীয় সবুজ সংকেত পেয়েছেন বলে জানা গেছে। সবুজ সংকেত পেয়ে তিনি পুরোদমে নির্বাচনী কাজে মাঠে নেমে পড়েছেন। বিভিন্ন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গিয়ে তিনি প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করছেন।

অপর দিকে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী গত নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান জানিয়েছেন, জাহাঙ্গীর আলমকে নৌকার পক্ষে কাজ করার জন্য বলা হয়েছে। দলীয় প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যথা সময়ে গাজীপুরের মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবেন। আর এ জন্য মনোনয়ন বোর্ড রয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মনোনয়ন বোর্ডই প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন। তিনিও দলীয় নেতা কর্মীদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

এদিকে গাজীপুর সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী বর্তমান মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নানের নামই বেশি শোনা যাচ্ছে। প্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন সাবেক এমপি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার।

২০১৩ সালের ৬ জুলাই অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বর্তমান মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খানকে পরাজিত করে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন অধ্যাপক এমএ মান্নান।

মেয়র মান্নানের দায়িত্ব গ্রহণ এবং বারবার তাকে বরখাস্তের ঘটনা গাজীপুরে আলোচিত বিষয়। কারণ, মেয়র হয়ে তিনি যত দিন চেয়ারে বসেছেন, তার চেয়ে বেশি কাটিয়েছেন কারাগারে।

২০১৩ সালের ৬ জুলাই মেয়র নির্বাচিত হন মান্নান। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার চার বছরে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছেন মাত্র ১৮ মাস ১৯ দিন। জেলে কাটিয়েছেন ২২ মাস। এই সময়ে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ৩০টি। বরখাস্ত হয়েছেন তিনবার। ৩০টি মামলা এবং বারবার বরখাস্তের ঘটনাকে ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখছেন অনেকে।

নগরবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচিত মেয়র ২২ মাস কারাগারে থাকায় নতুন এ সিটি কর্পোরেশনে তেমন কোনো উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি। নগরবাসী ভোট দিয়ে মেয়র নির্বাচিত করলেও তারা উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। দীর্ঘ সময় ভারপ্রাপ্ত মেয়র দিয়ে কাজ করানো হলেও প্রকৃত উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি মহানগরীতে।

নগরীর অপরিচ্ছন্নতা, তীব্র যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ভাঙ্গাচুরা রাস্তাঘাট, পানি, গ্যাস, বিদ্যুতের সমস্যা তো রয়েছেই। নগরবাসী তাদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির কোনো মিল খুঁজে পাচ্ছেন না। নূন্যতম নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন মহানগরবাসী। আসন্ন নির্বাচনে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নাগরিকরা উন্নয়নের স্বার্থে যোগ্য প্রার্থীকে বেছে নেবেন এমন দাবি সাধারণ নাগরিকদের।

আমিনুল ইসলাম/এমএএস/আইআই