কালীগঞ্জ-টঙ্গী-ঘোড়াশাল সড়কে বেড়েছে জনদুর্ভোগ
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরের সাথে যোগাযোগের বিকল্প পথ হিসেবে টঙ্গী-কালীগঞ্জ-ঘোড়াশাল সড়কটি ব্যবহৃত হয়। সময় ও দূরত্ব কমানোর জন্য এ সড়ক হয়ে ঢাকায় আসা-যাওয়া করে। কিন্তু সেই বিকল্প সড়কটির কিছু কিছু স্থান ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরধারীর অভাবে এই ঈদেও ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ চরমে। অনেকটা মেরামত করলেও অবশিষ্ট অংশটুকু মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়ক ও জনপদের অধীনে টঙ্গী স্টেশন সড়ক থেকে ঘোড়াশাল শহীদ ময়েজ উদ্দিন সেতু পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার রাস্তার কয়েকটি স্থানে কার্পেটিং উঠে খানাখন্দের ফলে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। তাছাড়া একই রাস্তায় রয়েছে ৪টি রেললাইনের লেভেল ক্রসিং। এই ৪টি ক্রসিং এর কারণে প্রতিদিনই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো নজরদারি নেই। ফলে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে এ সড়কে দিয়ে যাতায়াত করা ঘরমুখো মানুষসহ হাজার হাজার স্থানীয় যাত্রীরা।
টঙ্গী-কালীগঞ্জ-ঘোড়াশাল সড়কে যানজটের চিত্র
জানা যায়, কালীগঞ্জ-ঘোড়াশাল সংযোগস্থলে শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর শহীদ ময়েজ উদ্দিন সেতু নির্মাণের পর থেকে বন্দর নগরী চট্টগ্রাম ও বৃহত্তর সিলেটসহ দেশের ৩২টি জেলার যাত্রীবাহী বাস, মালবাহী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান সময় ও দূরত্ব কমানোর জন্য এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে আসছে। যাত্রাবাড়ী হয়ে রাজধানীতে প্রবেশ না করে এ সড়কটি ব্যবহারের কারণে দিন দিন যানবাহনের চাপও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আঁকা বাঁকা এই রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীবাহী বাস, মালবাহী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের যান চলাচল করছে। ফলে সড়কটি খুব বেশি প্রশস্থ না হওয়ার কারণে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। আর এ সড়কে কোনো দুর্ঘটনা ঘটা মানে তীব্র যানযটের সৃষ্টি হওয়া।
প্রতিদিন নরসিংদী, পলাশ, ঘোড়াশাল, কালীগঞ্জ ও পূর্বাইলের চাকুরীজীবী মানুষ এই রাস্তা দিয়ে গাজীপুর, টঙ্গী, উত্তরা ও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অফিস করার জন্য আসা যাওয়া করতে হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট ও দুর্ঘটনার কারণে অনেক সময়ও নষ্ট হচ্ছে। এমনকি জরুরি রোগীরা চিকিৎসা সেবা নেয়ার জন্য ঢাকা যাওয়ার পথেই রাস্তায় যানবাহন বিকলের কারণে অনেক সময় নষ্ট হচ্ছে এবং রোগীদের অবস্থরি আরো অবনতি হচ্ছে। ৪০/৪৫ মিনিটের রাস্তা সময় ব্যয় হয় ৪/৫ ঘণ্টা। ফলে জনসাধারণ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মনিরুজ্জামান জাগো নিউজকে জানান, তিনি জেলার উন্নয়ন কমিটির সভায় বিষয়টি উত্থাপন করছেন।
আব্দুর রহমান আরমান/এসএস/এমএস