নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা

বাগেরহাটে নিহত ওসমানের দাফন সম্পন্ন, দুদিনেও হয়নি মামলা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বাগেরহাট
প্রকাশিত: ০৯:৪১ পিএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বাগেরহাটে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় বিএনপির সমর্থকদের হামলায় নিহত ওসমান সরদারের (২৯) দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাগেরহাট সদর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের পারনওয়াপাড়া গ্রামে নিহতের গ্রামের বাড়ির উঠানে জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবর স্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এর আগে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার পারনওয়াপাড়া ও কচুয়া উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের ছিটাবাড়ি গ্রামে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ওসমান সরদারসহ উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হন। সংঘর্ষে গুরুতর আহত ওসমান সরদার চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। সেখানে ময়নাতদন্ত শেষে রোববার দুপুরে পারনওয়াপাড়া গ্রামের বাড়িতে আনা হয় ওসমান সরদারের মরদেহ।

এদিকে সংঘর্ষের দুদিন পার হলেও রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। এমনকি জড়িত কাউকে আটকও করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে হত্যায় জড়িতদের ‘শনাক্ত’ করা হয়েছে জানিয়ে তাদের ধরতে অভিযান চলছে বলে জানান বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শামীম হোসেন।

আরও পড়ুন:
বাগেরহাটে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় দুই দিনে একজন নিহত, আহত ৯০

সংঘর্ষে আহত পারনওয়াপাড়া গ্রামের ইমরান সরদার নিহত ওসমানের চাচাতো ভাই। প্রতিপক্ষের আঘাতে তার শরীরের বেশ কিছুস্থানে জখমসহ নাকের বা পাশ কেটে গেছে। সেখানে সেলাই লেগেছে।

ইমরান বলেন, ‘পশ্চিম পারনওয়াপাড়ার শহিদুল হাওলাদারসহ ৪০ থেকে ৫০ জন লোকজন দা, লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলতে থাকে, কারা ঘোড়ায় ভোট দিছে? এই বলে যাকে পাচ্ছিল তাকে মারছিল। একপর্যায়ে গ্রামবাসী মিলে তাদের প্রতিরোধের চেষ্টা করলে দু-পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।’

ওই গ্রামের অন্তত ছয়জন ঘটনার জন্য বেলায়েত হোসেন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল হাওলাদার, সদর উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আবুল হাসান শেখ ও গোটাপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল খানকে দায়ী করছেন। তাদের ভাষ্য, তাদের নেতৃত্বেই পাশের এলাকা থেকে লোকজন এই এলাকায় আসে। পরে এলাকার ছেলেদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধলে পাশের গ্রাম ছিটাবাড়িতে গিয়েও হামলা হয়।

সংঘর্ষে ওসমানসহ বেশ কয়েকজন রক্তাক্ত জখম হন। ওসমানের মাথায় কোপ লাগে। কপাল থেকে মাথার মাঝ পর্যন্ত গভীর ক্ষত হয়ে যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর থেকে তিনি বমি করছিলেন।

ওসমানের চাচাতো বোন লাইলী আক্তার বৃষ্টি বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে বিয়ে করে ওসমান। তাদের ঘরে একটি ছোট ছেলে সন্তান রয়েছে। এই যে প্রাণডা গেল, বাচ্চা টার কী হবে, পরিবারটার কি হবে?’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে শহিদুল, আবুল হাসান ও হাফিজুলের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। সবার ফোনই বন্ধ রয়েছে।

বাগেরহাট কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, নিহত ওসমানের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তার পরিবার মামলার জন্য এসেছেন।

নাহিদ ফরাজী/এসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।