আলো পাচ্ছে চরাঞ্চলের ২১শ পরিবার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ১২:২৯ পিএম, ২১ জানুয়ারি ২০১৮

স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার পদ্মা নদীতে জেগে ওঠা প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের কাঁচিকাটা ও নওপাড়া ইউনিয়নে বিদ্যুৎবিহীন প্রায় ২১শ পরিবার পাচ্ছে গ্রিডবিদ্যুৎ। আর এ বিদ্যুৎ পৌঁছে দিচ্ছে উদ্যোক্তা সোলার ইলেক্ট্রো বাংলাদেশ লিমিটেড নামে বেসরকারি একটি সংস্থা।

জানা যায়, প্রত্যন্ত অঞ্চল ও দুর্গম চরাঞ্চল যেখানে গাড়ি যায় না, যেখানে বিদ্যুতের খুঁটি পৌঁছায় না, সেখানে গ্রিডবিদ্যুৎ ব্যবহারে আলো জ্বলে ও ফ্যান চলে। তাই বিদ্যুৎ বিহীন কাঁচিকাটা-নওপাড়া ইউনিয়নের পরিবারগুলোকেও গ্রিডবিদ্যুৎ পৌঁছে দিচ্ছে সংস্থাটি।

কাঁচিকাটা ও নওপাড়া ইউনিয়নের দুটি স্থানে ছয় একর জমিতে ১ হাজার ৯২০টি সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। যার ধারণক্ষমতা ৪৯৯ দশমিক ২ কিলোওয়াট। সোলার ব্যবস্থা ছাড়া ও জেনারেটর দ্বারা বিদ্যুতের ব্যাকআপ দেয়া হবে। এতে করে কয়েকদিন এক নাগাড়ে বৃষ্টি হলেও বিদ্যুতের কোনো সমস্যা হবে না। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নামকরণ করা হয়েছে কাঁচিকাটা ও নওপাড়া সোলার মিনিগ্রিড প্রোজেক্ট ।

কাঁচিকাটা গ্রামের রিয়াজ হাওলাদার, রিপন বেপারী, নিজাম হাওলাদার ও সিরাজ সরদার জানান, গ্রামে কখনো বিদ্যুৎ আসবে কি না জানা নেই। সেজন্যই তারা কিস্তিতে গ্রিডবিদ্যুৎ সংযোগ নিয়েছেন। বিদ্যুতের আলোয় ছেলেমেয়েরা পড়ালেখা করছে। পাশাপাশি মোবাইল চার্জ দেয়া থেকে শুরু করে টেলিভিশনও দেখছেন তারা।

নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রাশেদ আজগর সোহেল মুন্সী জানান, এ মাসেই বিদ্যুতের আলো পাবেন তার ইউনিয়নের ১ হাজার ৫৬টি পরিবার। গ্রিডবিদ্যুৎ পেলে চরাঞ্চলের ছেলে মেয়েরা লেখাপড়াসহ বিনোদন পাবে। গ্রিডবিদ্যুৎ স্থাপনের ফলে জ্বালানি তেলের ওপর চাপ কমবে বলেও জানান তিনি।

সংস্থাটির অ্যাসিসটেন্ট ম্যানেজার প্রকৌশলী কলিন্স বলেন, নড়িয়ার কাঁচিকাটা ও নওপাড়ার মোট ছয় একর জমিতে সৌর প্যানেল বসানো হয়েছে। যা সৌর প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংগ্রহ করে গ্রিডবিদ্যুতে পরিণত করা হয়। ইতোমধ্যে কাঁচিকাটার কয়েকটি পরিবারের মাঝে গ্রিডবিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে। আর নওপাড়ায় এই মাসের ভেতর সংযোগ দেয়া শুরু হবে।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী ডিএম মজিবর রহমান জানান, ২০১৬ সালের নভেম্বর থেকে নড়িয়ার কাঁচিকাটা ও নওপাড়া ইউনিয়নে গ্রিডবিদ্যুতায়নের কাজ শুরু করেন। এ পর্যন্ত দুই ইউনিয়নে ১ হাজার ৯২০টি বড় বড় সৌর প্যানেল স্থাপন করেছেন। এতে সুবিধা পাচ্ছে ইরিগ্রেশন, ওয়ার্কশপ, স’মিল, রাইছমিল, অটোগ্রেজ, কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার, কারখানা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান। তাছাড়া বিদ্যুতের আলো পাবেন প্রায় ২ হাজার ১০০ পরিবার।

তিনি জানান, প্রতিটি সৌর প্যানেল চাহিদানুযায়ী সংযোগে সার্ভিস তার, মিটার, বাতি, ফ্যান, টিভি ও ফ্রিজের জন্য ৪ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকেন তারা।

ছগির হোসেন/এফএ/আইআই

আপনার মতামত লিখুন :