সোনামসজিদ বন্দরে ৬ মাসে রাজস্ব ঘাটতি ৬৪ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রাজশাহী
প্রকাশিত: ০২:০২ পিএম, ২৩ জানুয়ারি ২০১৮

ক্রমেই আমদানি কমছে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে। এর প্রভাবে চলতি অর্থ বছরের গত ছয় মাসে বন্দরে রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে ৬৪ কোটি ৫৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের শঙ্কা- বছর শেষে ঘাটতি দাঁড়াবে ৩৯২ কোটি ৫৪ লাখ ২৩ হাজারে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতীয় সিন্ডিকেটে জিম্মি হয়ে লোকসান ঠেকাতে আমদানি কমাচ্ছেন তারা। এছাড়া পাচ্ছেন না কাস্টমস কর্তৃপক্ষের বিশেষ সুবিধাও। প্রায় দেড় বছর ধরে চলে আসা এ পরিস্থিতিতে ফল ও পাথর আমদানিতে নেমেছে ধস। ফলে রাজস্ব ঘাটতিতে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ স্থলবন্দর।

কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, তারা ওজন কারচুপি বন্ধ করে দিয়েছেন। নিয়ন্ত্রণ করেছেন অন্যান্য অনিয়মও। এর প্রভাব পড়েছে আমদানিতে। এতে স্বভাবিকভাবেই কমেছে রাজস্ব প্রবাহ। বন্দরে গত চার মাসে ঘাটতি হয়েছে ৬৪ কোটি ৫৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকা।

সোনামসজিদ আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি রফিকুল ইসলাম জানান, যোগাযোগ সুবিধায় ফল ও পাথর আমদানিতে আমদানিকারকদের প্রথম পছন্দ সোনামসজিদ বন্দর। কিন্তু সম্প্রতি ভারতীয় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দফায় দফায় পাথরের দাম বাড়াচ্ছে। এছাড়া পাথরের সঙ্গে ধুলোবালি দেয়ায় শুল্ক পরিশোধ করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন আমদানিকারকরা। আবার আগাম শুল্ক পরিশোধ করে পণ্য না পেয়ে বিপাকে পড়ছেন।

ফল আমদানি কমে যাওয়া প্রসঙ্গে রফিকুল ইসলাম বলেন, চীন থেকে দেশে প্রচুর ফল আমদানি হচ্ছে। এতে ভারতীয় ফলের বাজার কমেছে। এছাড়া পাথরের মতো ফল ও পচনশীল পণ্য রফতানিতেও সিন্ডিকেট করছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। তারা পরিবহন সংকট তৈরি করে আমদানীকারকদের আমদানি ব্যয় বাড়াচ্ছেন। এতেই কমেছে বন্দরে স্বাভাবিক আমদানি প্রবাহ। এনিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় রফতানিকারকদের সঙ্গে দেন-দরবার চলছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত বন্দরে ব্যাপক ওজন কারচুপিসহ নানা অনিয়ম হয়েছে। এ সময় তাজা ফল, পাথর, জিরা এবং বিভিন্ন অবাণিজ্যিক পণ্য আমদানিতে বিপুল অংকের শুল্ক ফাঁকি দেন আমদানিকারকরা। বিষয়টি স্বীকার করেছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা।

jagonews24

এদিকে বন্দর শুল্ক স্টেশনের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বন্দরে আমদানি কমেছে। এ সময় শুল্ক ছাড়সহ বন্দরে বাড়তি কোনো সুবিধা পাননি ব্যবসায়ীরা।

জনতে চাইলে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট রাজশাহীর কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ব্যবসায়ীরা যে বন্দরে বিশেষ সুবিধা পাবেন সেখানেই আমদানিতে ঝুঁকবেন। এখন সোনামসজিদে তেমন সুবিধা না পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। এতেই রাজস্ব ঘাটতিতে পড়েছে বন্দর। ব্যবসায়ীদের ছাড় দেয়া অনিয়ম কিনা জানতে চাইলে এনিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি কমিশনার।

সোনামসজিদ বন্দর শুল্ক স্টেশন জানিয়েছে, গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত চলতি ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে বন্দরে শুল্ক আদায় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৩৬ কোটি ৯৬ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। কিন্তু আদায় হয়েছে ১৭২ কোটি ৩৯ লাখ ৩২ হাজার টাকা। ২৭ দশমিক ২৫ শতাংশ হারে গত চার মাসে রাজস্ব ঘাটতি ৬৪ কোটি ৫৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। অর্থ বছর শেষে ৬৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ হারে তা দাঁড়াতে পারে ৩৯২ কোটি ৫৪ লাখ ২৩ হাজার টাকায়।

এর আগে ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরেও ২৯৯ কোটি ২১ লাখ ৬৩ হাজার টাকা রাজস্ব ঘাটতি হয়। সেইবার লক্ষ্যমাত্রা ৮৩১ কোটি ৪১ লাখ ৫৭ হাজার টাকার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয় ৫৩২ কোটি ১৯ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। তবে এর পরের অর্থ বছরে ৩৯ দশমিক ৭৯ হারে রাজস্ব উদ্বৃত্ত হয়েছে ১৪৬ কোটি ৬৫ লাখ ৮৬ হাজার টাকা।

২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে বন্দরে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৫১৫ কোটি ২২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা।

আরএআর/আরআইপি