নারায়ণগঞ্জে হকার নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় ১১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ
নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় হকার ইস্যু নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমান ও সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় ১১ জনের সাক্ষ্য নিয়েছে তদন্ত কমিটি।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল অবধি নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে তাদের সাক্ষ্য নেয়া হয়।
এসময় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জসীম উদ্দীন হায়দার, সদস্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমান, র্যাবের সহকারী পরিচালক বাবুল আক্তার উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট এবি সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, হকার্স আন্দোলনের নেতৃত্ব দানকারী জেলা সিপিবি ও ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, হকার্স সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক মো. আসাদুল ইসলাম আসাদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা হকার্স শ্রমিকলীগের নেতা আব্দুর রহিম মুন্সিসহ ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জসীম উদ্দীন হায়দার গণমাধ্যমকে বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি ও সেক্রেটারি, হকারদের আন্দোলনে নেতৃত্বে থাকা ৩ জন ও আহত ৬ জন এই ১১ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনাটি যেহেতু বড় একটি বিষয় এজন্য সময় লাগবে।
নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান জানান, ঘটনাটির সূত্রপাতসহ বিস্তারিত বিষয় তদন্ত কমিটির কাছে তুলে ধরেছি।
জেলা সিপিবি ও ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি হাফিজুল ইসলাম জানান, আমাদের কাছে ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল। আমরা বিস্তারিত তদন্ত কমিটিকে জানিয়েছি।
উল্লেখ্য, গত ১৬ জানুয়ারি সংঘর্ষে সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীসহ অন্তত অর্ধশত আহত হন। ওই ঘটনার পরদিন ১৭ জানুয়ারি জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রধান করা হয় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জসিমউদ্দিন হায়দারকে। কমিটির অন্য দুজন হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমান, র্যাবের সহকারী পরিচালক বাবুল আক্তার। বুধবার ২৪ জানুয়ারি তদন্ত কমিটির সময় আরও ৭ কার্যদিবস বাড়ানো হয়।
শাহাদাত/এমএএস/জেআইএম