স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণে ভাগ্নেকে মামার সহায়তা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বাগেরহাট
প্রকাশিত: ০৪:৩২ পিএম, ২৮ জানুয়ারি ২০১৮

স্থানীয় ইউপি সদস্যের সহায়তায় বাগেরহাটের শরণখোলায় দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ওই ইউপি সদস্যের ভাগ্নের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় জড়িত ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৮) ও তার ভাগ্নে কলেজছাত্র রায়হান উদ্দিন রুমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ

শনিবার রাতে স্কুলছাত্রীর মা ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে অভিযুক্ত মামা-ভাগ্নের বিরুদ্ধে শরণখোলা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। নির্যাতনের শিকার স্কুলছাত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মোড়েলগঞ্জ থেকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, শরণখোলা উপজেলার আমড়াগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা রুহুল আমিন হাওলাদারের ছেলে এইচএসসি পরীক্ষার্থী রায়হান উদ্দিন রুমান দীর্ঘদিন ধরে তার মেয়েকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল।

এতে রাজি না হওয়ায় গত ২৬ জানুয়ারি স্কুল ছুটির পর তার মেয়েকে শরণখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা এলাকার জনৈক ফারুক আকনের বাড়ি সংলগ্ন একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায় মামা-ভাগ্নে।

পরে সেখানে আটকে রেখে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে তার মেয়েকে একাধিকবার ধর্ষণ করে রায়হান। পরবর্তীতে অজ্ঞাত একটি মোবাইল থেকে তার মেয়ের অসুস্থতার কথা শুনে ওদিন সন্ধ্যায় মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

মামালার বাদী ফাতেমা বলেন, মেয়েকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনা কাউকে জানালে খুন করা হবে বলে হুমকি দেয় ধর্ষক রায়হানের মামা ধানসাগর ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। সেই সঙ্গে শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থাকা অবস্থায় আসামিরা মেয়েকে একাধিকবার হুমকি দেয়।

এ ঘটনার পর শনিবার রাতে আমি বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে রায়হানের মামা জাহাঙ্গীর হোসেন ও ভাগ্নে রায়হান উদ্দিন রুমানকে আসামি করে শরণখোলা থানায় মামলা করি।

এ বিষয়ে শরণখোলা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবিরুল ইসলাম বলেন, স্কুলছাত্রীর মা বাদী হয়ে মামলা করলে রায়হান ও তার মামা ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়। পাশাপাশি অসুস্থ স্কুলছাত্রীকে উন্নত চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শওকত আলী বাবু/এএম/জেআইএম