সাতক্ষীরায় পান চাষে লাভবান চাষিরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ০৮:৪১ পিএম, ৩০ জানুয়ারি ২০১৮

পান চাষে ব্যাপক মুনাফা পেয়েছেন সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা এলাকার কৃষকরা। এ জন্য এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও অনেক বেশি জমিতে পান চাষ করেছেন চাষিরা।

এক সময় শুধু বারুই সম্প্রদায়ের মানুষরা পান চাষ ও এই ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও বর্তমানে অনেক কৃষকরা পান চাষের প্রতি ঝুঁকছেন।

পাটকেলঘাটার পারকুমিরা, শাকদাহ, বড়বিলা ও কুমিরার বারুইপাড়া এলাকার চাষিরার এখন নতুন বরজ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবার কেউ কেউ পুরনো বরজ সংস্কার কাজে ব্যস্ত। বাঁশ ও বাঁশের শলা এবং জিআই তার দিয়ে মাচা তৈরি করে খড়-কুটা দিয়ে ছাউনি করে সুপারি গাছের পাতা ও কলা পাতা দিয়ে ঘিরে তৈরি করা হচ্ছে পানের বরজ।

পানচাষি তোহিদুর রহমান জানান, ভেতরে মাটি কেটে লম্বা খণ্ড লাইন তৈরি করে রোপণ করা হচ্ছে পানের লতি। লতি থেকে হয় পান গাছ। পান বরজ সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হয়। আর বরজে যেন কোনো রকম পানি বাঁধতে না পারে সে জন্য নালা কেটে পানি সরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আর অতি রোদ বৃষ্টি ও শীত যেন পানের ক্ষতি করতে না পারে সে জন্য মাচা তৈরি করে খড়-কুটা বা নারিকেলের পাতা দিয়ে ছাউনি দেয়া হচ্ছে।

পাটকেলঘাটা এলাকার এক পান বিক্রেতা আবুল হাসান বলেন, খিলি পানের পৌন (৮০টা) বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। এ সময় অন্যান্য বছর পানের দাম থাকে ৫০-৬০ টাকা। গেল বছর পানচাষিরা ব্যাপক লাভবান হয়েছে। একর প্রতি পান চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ৩ লাখ টাকা। আর তা বিক্রি হয়েছে প্রায় ৭ লাখ টাকা।

পাটকেলঘাটার কুমিরা রাঢ়ীপাড়ার পানচাষি প্রতাপ বিট জানান, প্রতি বিঘা পানের বরজ করতে ৮০ থেকে ১ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। সব কৃষক পানের বরজ করতে পারে না। বরজে ব্যাপক পরিশ্রম ও প্রচুর সময় দিতে হয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর খামারবাড়ির উপ-পরিচালক আব্দুল মান্নান জাগো নিউজকে বলেন, এ বছর পাটকেলঘাটা থানায় প্রায় সাড়ে ৫শ একর উঁচু জমিতে পান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে গত বছর কৃষক পানের মূল্য বেশি পাওয়ায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও দ্বিগুণ জমিতে পান চাষ হচ্ছে।

আকরামুল ইসলাম/এএম/আইআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।