বিজিপির কাছ থেকে ফেরত আনা ৫ জেলের কারাদণ্ড

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৯:১৩ পিএম, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
ফাইল ছবি

নাফ নদে মাছ শিকার করতে গিয়ে জলসীমা অতিক্রম করায় মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষা বাহিনী বিজিপির হাতে আটক পাঁচ জেলের প্রত্যেককে তিন মাস করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে টেকনাফ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদ হোসেন ছিদ্দিকী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা তাদের এ সাজা দেন।

শনিবার সকালে তারা টেকনাফের হোয়াইক্যং এলাকার নাফ নদে মাছ শিকারে গিয়ে বিজিপির হাতে ধরা পড়ে। তারা জলসীমা অতিক্রম করেছিল বলে অভিযোগ করে বিজিপি।

দুপুর আড়াইটার দিকে বিজিবি টেকনাফ ব্যাটেলিয়ন কর্তৃপক্ষ শাস্তির আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জেলেদের ফেরত আনে এবং প্রতিশ্রুতি মতে সাজা দিয়ে তাদের কারান্তরীণ করা হলো। টেকনাফ ২ ব্যাটালিয়ন বিজিবি কমান্ডার লে. কর্নেল এসএম আরিফুল ইসলাম বিষয়টি সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কাঞ্জর পাড়ার এলাকার আব্দুল গফুরের ছেলে আজিজুল্লাহ (৩৮), মৃত আব্দুল শুক্কুরের ছেলে ইয়ার মোহাম্মদ (৩৯), মৃত নুরুল আলমের ছেলে শাহ আলম (৩৭), আব্বাসের ছেলে মো. রফিক(৩০) ও আব্দুল জলিলের ছেলে পেটান আলী (৩৪)।

লে. কর্নেল এসএম আরিফুল ইসলাম জানান, রোহিঙ্গা ইস্যুর কারণে গত সেপ্টেম্বর থেকে নাফ নদে বাংলাদেশি জেলেদের জন্য মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা দেয়া আছে। তা অমান্য করে মাছ শিকারে যাওয়া এবং মাছ ধরতে গিয়ে জলসীমা অতিক্রম করায় জেলেরা মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষা বাহিনী বিজিপির হাতে আটক হচ্ছে। শনিবারও এমন ঘটনায় বিজিবি আলোচনার মাধ্যমে বিজিপির কাছ থেকে আটক বাংলাদেশি জেলেদের ফেরত আনে। বিব্রতকর এ অপরাধটি আর যেন না করা হয় এবং তাদের দেখে যেন অন্যরা শিক্ষা পায় সে জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত পারিচালনা করে ৫ জেলের প্রত্যেককে ৩ মাস করে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় সদস্য আব্দুল গাফ্ফার জানান, শনিবার সকালে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কাঞ্জরপাড়া সংলগ্ন নাফ নদে একদল বাংলাদেশি জেলে মাছ শিকার করছিল। হঠাৎ মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষা বাহিনী বিজিপির শীলখালী ক্যাম্পের বিশেষ টহলদল স্পিড বোট নিয়ে এসে বাংলাদেশি জেলেদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। এ সময় চরজাল নিয়ে মাছ ধরারত কাঞ্জর পাড়ার ফকির মোহাম্মদের ছেলে নুরুল ইসলাম (৩৫) গুলিবিদ্ধ হন। গুলি করে চলে যাওয়ার সময় বিজিপি সদস্যরা ৫ জেলেকে নৌকাসহ ধরে নিয়ে যায়। আর গুলিবিদ্ধ জেলে নুরুকে অন্য জেলেরা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কাঞ্জরপাড়া বাজারে আনে। সেখান থেকে তাকে কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পের হাসপাতালে নেয়া হয়।

সায়ীদ আলমগীর/আরএআর/জেআইএম