টিনের ঘরে গহনা বিপ্লব

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি ঝিনাইদহ
প্রকাশিত: ১১:৩৮ এএম, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

ঝিনাইদহের মহেশপুরে ইমিটেশন জুয়েলারি কারখানা ছিল মাত্র ২টি। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে এখানে কারখানার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১টিতে। আর এসব কারখানায় উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণে সরাসরি জড়িত স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সহস্রাধীক নারী-পুরুষ। এখানকার ৮ শতাধিক পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে এই ইমিটেশন জুয়েলারিতে কাজ করে।

কর্মসংস্থানের সুযোগ হওয়ায় বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্রও। ছোট ছোট গহনার পরিবর্তে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত কর্মীদের নানা ডিজাইনের টেকশই গহনা এখন যাচ্ছে কমপক্ষে দেশের ১৫টি জেলার বাজারে। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন পিকেএসএফ ও আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল ইফাদের আর্থিক এবং কারিগরি সহযোগিতায় শিশু নিলয় ফাউন্ডেশন নামের একটি বেসরকারি সংগঠন এটি বাস্তবায়ন করছে।

gold1

সরেজমিনে মহেশপুর উপজেলার বৈচিতলা, নওদাগ্রাম, জলিলপুর, যোগীহুদা, রামচন্দ্রপুর, বাথানগাছিসহ দরিদ্রপিড়ীত বিভিন্ন গ্রামে কর্মসংস্থানের এ নতুন চিত্র দেখা গেছে। দল বেঁধে বসে একনিষ্ঠ মনোযোগে ছাঁচ আর ডিজাইনে কেউ কেউ গলাচ্ছে নানা ধাতব পদার্থ, কারো মনোযোগ নকশাতে কারো বা হাতে চলছে গহনার চূড়ান্ত ডিজাইন। কেউবা পুঁথি সাজাচ্ছে কোথাও আবার চলছে সোনালী রঙের কাজ। ভাঙাচোরা টিনশেডের ঘরে গহনা তৈরির এমন মহাযজ্ঞ চলছে দেশের সীমান্তবর্তী জেলা মহেশপুরে।

gold1

পৌরসভাসহ ৩টি ইউনিয়নে ১১টি কারখানার মাধ্যমে জীবনযাত্রা বদলের এ গল্প শুরু হয়েছে। এ উপজেলা জুড়েই ভারত সীমান্ত। ভালো অবকাঠামো, কলকারখানা আর যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় ক্রমেই বাড়ছে বেকারত্ব। এই যখন অবস্থা ইমিটেশন গহনা তখন নতুন স্বপ্ন এলাকার মানুষদের কাছে।

স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার ফাঁকে কর্মসংস্থানের এমন সুযোগ হাতছাড়া করতে নারাজ। প্রতিদিন কাজ শেষেই পাচ্ছে নগদ টাকা। নিজের লেখাপড়ার খরচের পাশাপাশি পরিবারকেও সহযোগিতা করে চলেছে ক্ষুদে কারিগররা।

gold1

কারিগর আর ব্যবসায়ীরা জানান, আমুল পরিবর্তন ঘটেছে মহেশপুরের ইমিটেশন জুয়েলারি ব্যবসাতে। আগের চেয়ে মানসম্পন্ন আর উন্নত টেকশই ডিজাইনের বড় গহনা তৈরি হচ্ছে এখানে। ঢাকাসহ কমপক্ষে দেশের ১৫টি জেলায় যাচ্ছে এখানকার তৈরি গহনা।

শিশু নিলয় ফাউন্ডেশন যশোরের নির্বাহী পরিচালক নাছিমা বেগম জানান, মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের লাভজনক ব্যবসার সুযোগ, দরিদ্র ও অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর মজুরি ভিত্তিক কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে পিকেএসএফ ও ইফাদের আর্থিক-কারিগরি সহযোগিতায় যশোরের শিশু নিলয় ফাউন্ডেশন ৩ বছর মেয়দী এ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এটি বাংলাদেশের একটি সম্ভাবনাময় একটি সাকসেসফুল প্রোগ্রাম বলে মনে করছেন তিনি।

আহামেদ নাসিম আনসারী/এফএ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :