পরীক্ষার হলে সিসি ক্যামেরা, ১২ কেন্দ্রের দায়িত্বে ইউএনও

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি পটুয়াখালী
প্রকাশিত: ০৭:১২ পিএম, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০৭:১৬ পিএম, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার প্রতিটি এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার (সিসি) আওতায় আনা হয়েছে। সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা এ ১২টি কেন্দ্রের মনিটরিংয়ের দায়িত্বে রয়েছেন ইউএনও।

পরীক্ষা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে নেয়ার জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে ক্যামেরা বসানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। বাংলাদেশে এ প্রথম কোনো পাবলিক পরীক্ষার প্রতিটি কেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় নেয়া হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হয়েছে এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষা। চলতি বছর বাউফল উপজেলায় মোট ৬৫৩০ পরীক্ষার্থী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয়। উপজেলার মোট ১২টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন থেকে পাবলিক পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্রে বহিরাগতরা অনুপ্রবেশ করে নকল সরবরাহ করছে। পাশাপাশি কক্ষ পরিদর্শক পরীক্ষার্থীদের নকলে সহায়তা করছে। এতে উপজেলায় শিক্ষার গুণগত মান অনেকটা নিচে নেমে গেছে। যে কারণে এখানকার অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা উচ্চতর শিক্ষার জন্য ভালো মানের বিশ্ববিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে না।

বাউফলে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের জন্য উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা নেয়ার জন্য প্রতিটি কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এ ক্যামেরা স্থাপনের ফলে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট কেন্দ্রের অফিসে বসেই প্রতিটি কক্ষ নজরদারিতে রাখতে পারবেন।

Patuakhali-Pic--(2)

বাউফলের নওমালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কে এম নাসির উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান কার্যক্রমসহ শিক্ষার্থীদের আচার, আচরণ এবং সার্বিক কর্মকাণ্ড জানা যাবে। ফলে শিক্ষার একটি সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত হবে।

এদিকে, পশ্চিম নওমালা নেছারিয়া আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ ইব্রাহিম হাবিব জাগো নিউজকে বলেন, সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ফলে নকলমুক্ত পরিবেশ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে সরকারের যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় সেটি সফল হচ্ছে।

এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বাউফলে ৬৩৫০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে। উপজেলার ১২টি কেন্দ্রে, পাঁচটি ভেন্যু ও মাদরাসার পাঁচটি কেন্দ্রের ১৭০টি কক্ষ সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্র কিংবা ভেন্যুতে স্থাপন করা ক্যামেরা প্রধান শিক্ষকের কক্ষ থেকে মনিটরিং করা হয়। এছাড়া ইউএনও মোবাইলের মাধ্যমে ১২টি কেন্দ্র সরাসরি মনিটরিং করছেন।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, এখানকার শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এখন থেকে পরীক্ষায় অনিয়ম হলে তা ক্যামেরায় ধারণ হবে। তা দেখেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি পরীক্ষা সুষ্ঠু হচ্ছে।

মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/এএম/জেআইএম