সেই শিশুটির ডাক্তারি রিপোর্ট নিয়ে গড়িমসি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নাটোর
প্রকাশিত: ০৮:৪১ পিএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

নাটোরের বড়াইগ্রামে নয় বছরের এক শিশু ধর্ষণ হওয়ার পর তার ডাক্তারি রিপোর্টে অসঙ্গতি থাকায় রিপোর্টটি উচ্চতর মেডিকেল বোর্ড গঠন করে পর্যালোচনাসহ পুরো বিষয়টি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ধর্ষিতার বাবা।

গত শনিবার বিকেলে উপজেলার বনপাড়াস্থ পাঠান মার্কেট সম্মলেন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে শিশুটির বাবা লিখিত বক্তব্যে জানান, উপজেলার বনপাড়া পৌরশহরের পূর্ব হারোয়া এলাকার প্রতিবেশী চাঁন প্রামাণিকের ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী মাহবুর রহমান (১৬) গত ২৪ জানুয়ারি দুপুর ১২টার দিকে তাদের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে শিশুটি বাড়ি ফিরে এলে তাকে অসুস্থ দেখে তার মায়ের সন্দেহ হয়। পরে শিশুটি তার মাকে সব ঘটনা খুলে বলে। এরপর তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ওই দিন বিকেলেই তার বাবা বাদী হয়ে বড়াইগ্রাম থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

শিশুটির বাবা অভিযোগ করেন, পরের দিন দুপুর দেড়টার দিকে ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শিখা রাণী শিশুটির মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। অথচ মেডিকেল রিপোর্টে তারিখ দেখানো হয়েছে আগের দিন ২৪ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া রিপোর্টে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন এন্টিবায়োটিক ও ব্যথানাশক ওষুধ সেবন, বুকের নিচের অংশে কালো দাগ রয়েছে এবং মানসিক অবস্থা খারাপ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। লিখিত বক্তব্যে শিশুটির বাবা আরও অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্ত মাহবুরের মা ময়জান বেগম দীর্ঘদিন ধরে নাটোর নারী ও শিশু আদালতের সরকারি এক আইনজীবীর বাসার গৃহকর্মী। এর ফলে ডা. শিখা রাণীকে ওই আইনজীবী এই ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করতে প্রভাবিত করতে পারে বলে তাদের ধারণা। এই রিপোর্টের ফলে তারা ন্যায় বিচার পাবেন না বলে আশঙ্কা করে শিশুটির বাবা ও পরিবারের সদস্যরা উচ্চতর মেডিকেল বোর্ড গঠন করে ডাক্তারি রিপোর্ট পর্যালোচনা এবং পুরো বিষয়টি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন হাইকোর্ট ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই তহছেনুজ্জামান জানান, প্রাথমিক তদন্তে আসামি ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি আরও জানান, মামলা দায়ের করার পরের দিন আসামি মাহবুরকে পুলিশ গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দানের লক্ষে আদালত গত ৩০ জানুয়ারি তাকে ২৪ দিনের জন্য অন্তবর্তীকালীন জামিন দেন।

ধর্ষক মাহবুর বনপাড়া সেন্ট যোশেফস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র ও শিশুটি একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক সেকশনের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।

রেজাউল করিম রেজা/এমএএস/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :