বয়া ও বিকন বাতির অভাবে ঝুঁকি বাড়ছে চাঁদপুর নৌ-পথে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি চাঁদপুর
প্রকাশিত: ১১:১৫ এএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

 

দক্ষিণাঞ্চলে যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম চাঁদপুর নৌ-সীমানার ৭শ কিলোমিটার নৌ-পথে বিকন বাতি ও বয়ার অভাবে নৌযানগুলো ঝুঁকিতে চলাচল করছে। এতে প্রতিনিয়তই এই নৌপথে চলাচলকারী ৫০ লক্ষাধিক যাত্রী আতঙ্কের মধ্যে থাকছেন।

নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগ চাঁদপুরের উপ-পরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান জানান, চাঁদরপুর-ঢাকা ও চাঁদপুর-নারায়ণগঞ্জ নৌ-পথে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলে ৪০টি। এছাড়া ষাটনল থেকে আজাদ বাজার, চাঁদপুর-হিজলা, চাঁদপুর-নন্দির বাজার, চাঁদপুর-মাদারীপুর, চাঁদপুর-মাওয়াসহ বেশকিছু ছোট-ছোট শাখা নদী রয়েছে এরসাথে। বয়া ও বিকন বাতি না থাকায় মাঝে মাঝে দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হচ্ছে নৌযানগুলোকে।

নৌ-পথের চাঁদপুর অংশে প্রয়োজনের তুলনায় বয়া ও বিকন বাতি রয়েছে অনেক কম। চাঁদপুর অংশের ৭শ কিলোমিটার নৌ-পথে ১শ বয়া ও বিকন বাতি রয়েছে যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। তার মধ্যে আবার অনেকগুলো দীর্ঘদিন যাবৎ বিকল হয়ে আছে। এতে মহাবিপাকে পড়েন লঞ্চের সারেংরা। অনুমান কিংবা ধারণার উপর ভর করেই নৌযান পরিচালনা করেছেন চালকরা।

তিনি জানান, বয়া ও বিকন বাতিগুলো অনেক মূল্যবান। দেশের বাইরে থেকে আমদানি করা একটি বিকন বাতির দাম পড়ে ৬০-৭০ হাজার টাকা। এসব বাতিগুলোর বিভিন্ন প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ যেমন-সোলার, ব্যাটারি ও বাতি চুরি হয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয় নদীতে বর্তমানে এত বাল্কহেড চলছে যে এই বাল্কহেডের ধাক্কায় এসব বাতিসহ এর যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায়। প্রতি মাসেই প্রায় ৩০টি বয়া ও বিকন বাতি মেরামত করতে হচ্ছে। আমাদের স্থানীয়ভাবে মাত্র ১ হাজার টাকা খরচ করার অনুমতি রয়েছে, এর বেশি খরচ করতে হলে হেড অফিসের অনুমতির প্রয়োজন হয়। আর যেগুলো চুরি হয়ে যাচ্ছে, নতুন করে স্থাপনের জন্য হেড অফিসে লেখালেখি করে আনতে একটু দেরি হয়।

ধারণা করা হচ্ছে, জেলেরা এসব বয়া ও বিকন বাতি চুরি করে নিয়ে যায়। নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ালে কিছুটা হলেও এগুলো প্রতিরোধ করা যাবে।

ইকরাম চৌধুরী/এফএ/আরআিইপি

আপনার মতামত লিখুন :