৫ মিনিটে মিলবে গুরুত্বপূর্ণ নথি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি খাগড়াছড়ি
প্রকাশিত: ১০:০১ পিএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

 

কয়েকটি আলমারি আর তাকে থরে থরে সাজানো আছে ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি। হাত বাড়ালেই মিনিট পাঁচেকের মধ্যে মিলবে রেকর্ড সংশোধন বই থেকে শুরু করে নামজারি মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথি। যা কয়েকদিন আগেও ছিল শুধুই কল্পনা।

কয়েকদিন আগেও রেকর্ড রুম মানেই ছোট্ট একটি কক্ষ। নথি পাওয়া নিয়ে ছিল কালক্ষেপণ। একটি নথি পেতে দিনের পর দিন লেগে যেতো। ১০ ফুট বাই ৮ ফুট ছোট্ট রুমের মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতো গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র।

আবার মেঝেতে পড়ে থাকা নথিপত্রের ওপর ছাদ থেকে খসে খসে পড়েছে পলেস্তারা। তেলাপোকা ছোটাছুটি করেছে কক্ষজুড়ে। নথি পাওয়া বা একটি রেকর্ড সংশোধনের জন্য সেবাগ্রহীতাদের ঘুরতে হতো দিনের পর দিন। দুই মাস আগেও খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা ভূমি অফিসের চিত্র ছিল এমনই। মাটিরাঙ্গা ভূমি অফিসকে বলা হতো ‘অব্যবস্থাপনার তীর্থভূমি’।

৩৩তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের মেধাবী কর্মকর্তা মোহাম্মাদ আলী মাটিরাঙ্গা উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদানের কয়েকদিনের মধ্যেই বদলে গেছে মাটিরাঙ্গা ভূমি অফিসের রেকর্ড রুমের দৃশ্যপট।

মাটিরাঙ্গার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মাদ আলী জানান, এখানে যোগদানের পরপরই রেকর্ড রুমে নথির হাল দেখে হতাশ হই। তখন নথি ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তনের চিন্তা করি। যেমন চিন্তা তেমনই কাজ। আমার উদ্যোগে মাত্র কয়েকদিনে বদলে গেছে মাটিরাঙ্গা ভূমি অফিসের নথি ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে সার্বিক চিত্র।

এখন গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলো বছর ও কেস নম্বর অনুযায়ী সাজানো হয়েছে। এখন আবেদন করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাওয়া যাবে গুরুত্বপূর্ণ নথি এমনটাই জানিয়েছেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মাদ আলী।

ভবিষ্যতে মাটিরাঙ্গা ভূমি অফিসে রেকর্ড রুম ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার চালু করার স্বপ্ন দেখেন তিনি। জনগণের সেবাপ্রাপ্তি সমৃদ্ধ করতে নথি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, রেকর্ড সংরক্ষণ ভূমি অফিসের অন্যতম কাজ। তবে জনবান্ধব ভূমি অফিস প্রতিষ্ঠায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী মোহাম্মদ ইউনুছ আলী মোল্লা বলেন, সিস্টেম লসের কারণেই এমনটা হয়েছে। হাজার হাজার নথি ছোট একটি রুমে এলোমেলোভাবে পড়ে থাকায় ভোগান্তি বেড়েছে। একটি নথি খুঁজে পেতে নিদের পর দিন লেগে যেতো। ফলে যথা সময়ে সেবাপ্রাপ্তি ব্যাহত হতো। বর্তমান এসিল্যান্ড যোগদানের পরপরই স্যারের উদ্যোগের ফলে নথি ব্যস্থাপনায় গতি ফিরেছে। এখন আর ভোগান্তি থাকবে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিভীষণ কান্তি দাশ বলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মাদ আলী মাটিরাঙ্গায় যোগদানের দুই মাসের মাথায় স্যাতস্যাতে মেঝেতে ধুলা-ময়লায় ঢেকে থাকা ফাইলগুলো নতুন করে সেজেছে। ভবিষ্যতে ভূমি অফিসের সব কর্মকাণ্ডে গতি আসবে।

বিষয়টি জানাজানি হলে বছরের পর বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলো স্যাতস্যাতে মেঝেতে পড়ে থাকার পর দীর্ঘদিনের জন-ভোগান্তির লাঘব হবে বলেই মনে করছেন মাটিরাঙ্গার সচেতন মহল। তবে শুধুমাত্র নথি ব্যবস্থাপনাই নয় সেইসঙ্গে ভূমি অফিসকে জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার দাবি সচেতন মহলের।

মুজিবুর রহমান ভুইয়া/এএম/আইআই

আপনার মতামত লিখুন :