স্কুলছাত্রীর বিয়ে বন্ধ করলেন ইউএনও
বিয়ের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। বরযাত্রীও এসে গেছে। তবে বাল্য বিয়ে হওয়ায় সেটি বন্ধ করে দিয়েছেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তহমিনা খাতুন। একই সঙ্গে ছেলে ও মেয়ের পরিবারের কাছ থেকে বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিয়ের আয়োজন করা যাবে না মর্মে অঙ্গীকারনামা নেয়া হয়।
শুক্রবার দুপুরে সাতক্ষীরা পৌরসভার সুলতানপুর ঝিলপাড়ায় নেছার আলীর বাড়িতে দ্যা পোল স্টার পৌর হাইস্কুলে ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীর সঙ্গে কাজী আব্দুল কাদেরের ছেলে কাজী আবু তাহের লালনের বাল্য বিবাহের প্রস্তুতি চলছে- এমন সংবাদে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তহমিনা খাতুন।
তহমিনা খাতুন জাগো নিউজকে বলেন, খবর পেয়ে বাল্যবিয়ের প্রস্তুতি বন্ধ করেছি। এখন দেখার বিষয় মেয়েটির শিক্ষা জীবন রক্ষা পায় কি না। তাছাড়া অন্যত্র নিয়ে ১৮ বছর হওয়ার আগে গোপনে বিয়ে দেয়া হয় কি না সেটিও লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। মেয়েটিকে বাল্যবিয়ের ঝুঁকিতে থাকা মেয়ে হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মেয়ের বয়সের পরিচয় গোপন রাখতে টিকা কার্ড, সার্টিফিকেট ও জন্ম নিবন্ধন কার্ডে ভিন্ন ভিন্ন জন্ম তারিখ লক্ষ্য করা যায়। গ্রহণযোগ্য সনদ হিসেবে মেয়ের জন্ম তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০০২। ফলে মেয়ের বয়স ১৮ বছর পূর্ন না হওয়া পর্যন্ত বিয়ের আয়োজন করবে না বলে অঙ্গিকারনামা দিয়েছেন মেয়ের বাবা নেছার আলী, মা রাবেয়া খাতুন, ছেলে কাজী আবু তাহের লালন ও ছেলের বাবা কাজী আব্দুল কাদের।
এ সময় সাতক্ষীরা পৌর কাউন্সিলর কাজী ফিরোজ হাসান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কোহিনুর ইসলাম, অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম, কাজী মনিরুজ্জামান মুকুলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
আকরামুল ইসলাম/আরএআর/পিআর