সুন্দরগঞ্জে ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা
গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে উপ-নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে বিকেল ৪টায়। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে একটানা চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এখন চলছে ভোট গণনা।
মঙ্গলবার উপজেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে ভোটারদের উপস্থিতি কম দেখা গেছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে ছিল সর্বোচ্চ সতর্কতায়। বিভিন্ন সড়কে র্যাব, বিজিবি ও পুলিশকে টহল দিতে দেখা গেছে।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা চেষ্টার অভিযোগে উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের গোপালচরণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র থেকে গোপালচরণ এলাকার রেজাউল আলম, আশেক আলী জিকু, জুয়েল রানা ও দুদু মিয়াকে আটক করা হয়।

পরে দুপুর দেড়টার দিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে তাদের প্রত্যেককে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন।
এছাড়া ভোটগ্রহণের শেষের দিকে উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের উত্তর সাহাবাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে জাল ভোট দেয়ার চেষ্টাকালে একজনকে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
এই উপ-নির্বাচনে ১০৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়নে ভোটার রয়েছেন ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৫৫৬ জন।
উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আফরুজা বারী (নৌকা), জাতীয় পার্টি (জাপা) সমর্থিত প্রার্থী ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী (লাঙল), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) জিয়া জামান খান (আম) ও গণফ্রন্টের শরিফুল ইসলাম (মাছ) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনজুরুল ইসলাম লিটন দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হলে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনটি শূন্য হয়।
২০১৭ সালের ২২ মার্চ উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে জয়লাভ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা আহমেদ। তিনিও সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে এক মাস ঢাকায় চিকিৎসাধীন থাকার পর গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর মারা যান। ফলে আসনটি আবারও শূন্য হয়।
রওশন আলম পাপুল/এএম/আরআইপি