দু’দিনের সফরে গাজীপুর যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাজীপুর
প্রকাশিত: ০৬:৪৩ পিএম, ১৮ মার্চ ২০১৮
ছবি-ফাইল

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ দু’দিনের সফরে সোমবার গাজীপুর যাচ্ছেন। তিনি ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ স্বাধীনতার প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী বীর ও শহীদদের স্মরণে শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে নাগরিক গণসংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন।

এ উপলক্ষে রোববার সকালে গাজীপুরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে ১৯ মার্চ স্বাধীনতার প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর, গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ১৯ মার্চ স্বাধীনতার প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ দিবস উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজ বক্তব্য রাখেন।

সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর জানান, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ১৯ মার্চ বিকেল ৪টায় ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ গাজীপুরে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী বীর ও শহীদদের স্মরণে নাগরিক সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন। অনুষ্ঠানে ১৯ মার্চের হাই কমান্ডের তিনজন, অ্যাকশন কমিটির ১২ জন, শহীদ ৪ জন ও দুইজন আহতদেরসহ মোট ২১ জনকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হবে।

Gazipur

অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক নৃত্য ও কোরাস পরিবেশনা করা হবে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন ১৯ মার্চ ১ম সশস্ত্র প্রতিরোধের সংগঠক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হক।

পরদিন ২০ মার্চ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় গাজীপুরে কাশিমপুর কারাকমপ্লেক্সে কারা সপ্তাহ ২০১৮-এর উদ্বোধন করবেন। তিনি কারাগার প্রাঙ্গণে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করবেন। ওই দিন বিকেল ৩টায় রাষ্ট্রপতি গাজীপুরে অবস্থিত ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

এদিকে রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে গাজীপুর শহরজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। দিনরাত সড়ক মেরামত, ভবন রং ও চুনকামসহ নগরে চলছে সৌন্দর্য্য বর্ধনের কাজ। জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে গাজীপুরের বিভিন্ন সড়ক মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা, বিলবোর্ড উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ জয়দেবপুরে (গাজীপুর) ভাওয়াল রাজবাড়িতে তৎকালীন সেনানিবাসে দ্বিতীয় বেঙ্গল রেজিমেন্টকে নিরস্ত্র করার উদ্দেশ্যে ব্রিগেড কমান্ডার জাহানজেবের নেতৃত্বে পাঞ্জাব রেজিমেন্টের একদল সৈন্য জয়দেবপুর সেনানিবাসে আগমন করবে এই খবর পেয়ে জয়দেবপুরের সর্বস্তরের জনসাধারণ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

Gazipur

পরে ছাত্র- শ্রমিক-জনতা পাক হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ কল্পে চান্দনা চৌরাস্তা থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার রাস্তায় বহু সংখ্যক ব্যারিকেড তৈরি করে। দুপুরের দিকে পাক হানাদার বাহিনী চান্দনা চৌরাস্তায় উপস্থিত লোকজনকে অস্ত্রের মুখে ব্যারিকেড সরাতে বাধ্য করে সেনানিবাসে প্রবেশ করলে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা পুনরায় রাস্তায় ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। ছাত্র-জনতা জয়দেবপুর রেলওয়ে লেভেল ক্রসিংএ মালগাড়ির ওয়াগন ফেলে বন্দুক ও বাঁশের লাঠি নিয়ে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলে।

সেনানিবাস থেকে ফেরার পথে জয়দেবপুর লেভেল ক্রসিংয়ে পাক হানাদার বাহিনী উপস্থিত হলেই স্থানীয় সাহসী বীরদের বন্দুক গর্জে ওঠে। পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বন্দুক দিয়ে প্রথম গুলিবর্ষণ করা হয়। ওই সময় হানাদার বাহিনী পাল্টা গুলিবর্ষণ করলে নিয়ামত, মনু খলিফা শহীদ হন এবং ডা. ইউসুফ আলী সরকার ও সন্তুষসহ অনেকে আহত হন।

জয়দেবপুর থেকে চৌরাস্ত পর্যন্ত রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেট থাকায় হানাদার বাহিনী পায়ে হেঁটে চান্দনা চৌরাস্তায় উপস্থিত হলে স্থানীয় ছাত্র-জনতার সশস্ত্র প্রতিরোধের মুখে তারা এলোপাতারি গুলি বর্ষণ করে। এখানে গুলিতে হুরমত আলী শহীদ হন এবং কানু মিয়াসহ অনেকে আহত হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরে কানু মিয়া মারা যান।

আমিনুল ইসলাম/এমএএস/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।