নারীদের মার্কেট পুরুষের দখলে!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৯:৫৫ পিএম, ২১ মার্চ ২০১৮ | আপডেট: ০৯:৫৯ পিএম, ২১ মার্চ ২০১৮
নারীদের মার্কেট পুরুষের দখলে!

নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সিরাজগঞ্জের তাড়াশের দেশিগ্রাম ইউনিয়নে নির্মিত মহিলা মার্কেটটি এখন পুরুষের দখলে। এতে সরকারের উদ্দেশ্য ভেস্তে যেতে বসলেও নিরব কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, ২০১০-১১ অর্থ বছরে তাড়াশে নির্মিত হওয়া মহিলা মার্কেটটি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বরাদ্দ দেয়ার কারণে সরকারের মূল উদ্দেশ্য ভেস্তে যেতে বসেছে। তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত হাট কমিটি ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের তদারকি না থাকায় মার্কেটের ৫টি দোকানই বেদখল হয়ে গেছে। প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ তাদের নামে বরাদ্দ নিয়ে মোটা অঙ্কের (সিকিউরিটি মানি) টাকা নিয়ে অন্যদের ভাড়া দিয়েছেন।

উপজেলার দেশিগ্রাম ইউনিয়নের কাটাগাড়ী বাজারে ৫ কক্ষের মহিলা মার্কেট নির্মাণ করা হয়। আর মহিলা মার্কেটের ১ নং রুম উত্তর শ্যামপুরের প্রভাবশালী খলিলুরের স্ত্রী লাভলী খাতুনের নামে বরাদ্দ, ২ নং রুম একই গ্রামের প্রভাবশালী রাবন কুমারের স্ত্রী সবিতা রানীর নামে বরাদ্দ, ৫ নং রুম বলদী পাড়া গ্রামের আল মামুনের স্ত্রী মমতা খাতুনের নামে বরাদ্দ, ৪ নং রুম উত্তর শ্যামপুরের শাহ আলমের স্ত্রী আয়েশা খাতুনের নামে বরাদ্দ, ৩ নং রুম একই গ্রামের ডা. রওশন আলীর স্ত্রী রুপবান খাতুনের নামে বরাদ্দ নেয়া হয়েছে। অথচ সেসব মহিলারা মার্কেটে ব্যবসা করেন না। তারা ভাড়া দিয়েছেন দোকানগুলো।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহিলা মার্কেট নির্মাণে নীতিমালায় বলা হয়েছে- মহিলা মুক্তিযোদ্ধা অথবা শহীদ পরিবারের সদস্য, উৎপাদনশীল ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নারী, বিধবা কিংবা স্বামী পরিত্যক্তা, পরিবার প্রধান মহিলা যিনি ব্যবসা করতে আগ্রহী, অর্থনৈতিকভাবে অসুবিধাগ্রস্ত এমন মহিলাদের মধ্যে দোকান বরাদ্দ দেয়া হবে। দোকান বরাদ্দ পাওয়া মহিলা ছাড়া কোনো পুরুষ পরিচালনা করতে পারবে না। যদিও শুরুতেই সে নীতিমালা মানা হয়নি।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, হাট-বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি দোকানের প্রতি বর্গফুট হিসাবে ভাড়া নির্ধারণ করে দেবে। প্রাপ্ত ভাড়ার শতকরা পাঁচ ভাগ সরকারকে ভূমি রাজস্ব খাতে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে প্রদান করতে হবে।

ভাড়ার ১৫ ভাগ মার্কেটের রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় হবে। বাকি ৮০ ভাগ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ কিংবা পৌর পরিষদের তহবিলে জমা হবে। কোনোভাবেই বরাদ্দ পাওয়া দোকান অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করতে পারবে না। মার্কেটগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নীতিমালায় সবকিছু উল্লেখ করা হলেও এসবের কিছুই হচ্ছে না।

মহিলা মার্কেটের ৫ নং রুম বলদীপাড়া গ্রামের আল মামুনের স্ত্রী মমতা খাতুনের নামে বরাদ্দ হলেও পরিচালনাকারী আব্দুল গফুর জানান, মহিলা মার্কেট হলেও স্থানীয় প্রভাবশালীরা ব্যবসা করছেন। কারণ মহিলারা তো ব্যবসা করতে পারে না। এছাড়া বিগত সময়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মরহুম খলিলুর রহমান তার পছন্দের লোকজনদের বরাদ্দ দিয়েছেন। এখানে কে প্রভাবশালী বা ধনী সেটা দেখা হয়নি।

এ বিষয়ে স্থানীয় দেশিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস জানান, যাদের নামে বরাদ্দ তাদের আত্মীয়-স্বজনরাই ব্যবসা করছেন। কারো ভাই কারো স্বামী। এ জন্য তাদের কিছু বলা যাচ্ছে না।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এএম/জেআইএম