ভাতিজি হত্যায় চাচি ও পরকীয়া প্রেমিকের মৃত্যুদণ্ড

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি চাঁদপুর
প্রকাশিত: ০৪:১৪ পিএম, ২২ মার্চ ২০১৮

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার পূর্ব উপলতা গ্রামে ভাতিজি রুমা আক্তারকে (২২) হত্যার দায়ে চাচি জান্নাতুল ফেরদৌস মায়া (৪০) ও মায়ার পরকীয়া প্রেমিক জহিরুল ইসলামকে (৪৫) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে চাঁদপুরের জেলা ও দায়রা জজ সালেহ উদ্দিন আহমদ আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মায়া শাহারাস্তি উপজেলার পূর্ব উপলতা গ্রামের মৃত পুলিশ সদস্য হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী এবং জহিরুল ইসলাম একই গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, রুমা আক্তার ঘটনার প্রায় দশ বছর পূর্বে চাচি মায়ার সঙ্গে চাচার চাকরিস্থল সিলেটে একত্রে থাকতো। রুমাকে তারাই লালনপালন করেছে।

২০১৫ সালে চাচা হুমায়ুন কবির মারা যায়। এরপর মায়া বাড়িতে এসে ঘর তৈরি করে বসবাস করে। এখানেও রুমা তার চাচির সঙ্গেই থাকতো।

এরই মধ্যে বাড়ি নির্মাণ করতে গিয়ে জাহিরুল ইসলামের সঙ্গে মায়ার অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ রাতে চাচিকে জহিরুল ইসলামের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলায় রুমা আক্তারকে হত্যা করা হয়।

ভোরে মায়া নিজেই রুমার বাবা-মাকে ডেকে তাদের মেয়ে স্টোক করে মারা গেছে বলে জানায়। পরে তাকে দাফন করার জন্য গোসল দিতে গেলে শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এতে রুমার বাবার সন্দেহ হলে বিষয়টি থানায় অবহিত করে।

এ ঘটনায় ওদিন রাতে রুমার বাবা আনা মিয়া তার ভাইয়ের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস মায়া ও জহিরুল ইসলামকে আসামি করে শাহরাস্তি থানায় হত্যা মামলা করে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহরাস্তি থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল মান্নান ২০১৬ সালের ২৫ আগস্ট আদালতে চার্জশিট দেয়।

সরকারপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আমান উল্লাহ জাগো নিউজকে জানান, মামলাটি দীর্ঘ দুই বছর চলমান অবস্থায় আদালত ১৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন এবং আসামিরা তাদের অপরাধ স্বীকার করায় মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

সরকারপক্ষের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ছিলেন মোক্তার আহম্মেদ এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন সেলিম আকবর ও চৌধুরী আবুল কালাম আজাদ।

ইকরাম চৌধুরী/এএম/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :