বিপন্ন প্রজাতির ‘বাজারিয় টেংরা’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ০৫:২২ পিএম, ২৩ মার্চ ২০১৮

দেশের খাল-বিল, নদী-নালা ও পুকুর-ডোবা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ। প্রাকৃতিক উৎসে জন্ম নেয়া কৈ, মাগুর, শিং, পাবদা, চাপিলা, টাকি, রুই, কাতলা, মৃগেল, চিতল, রিটা, পাঙ্গাস, বোয়াল, খৈলসার মতো সুস্বাদু দেশি মাছগুলো এখন আর দেখা যায় না বললেই চলে। বিপন্ন প্রজাতির সংখ্যা এমনভাবে বাড়ছে যে একদিন হয়তো দেখা যাবে দেশীয় জাতের মাছ হারিয়ে গেছে। তার স্থলে জায়গা করে নিয়েছে জেনেটিক গবেষণায় উদ্ভাবিত অধিক উৎপাদনশীল জাতের মাছ।

দিনে দিনে বিপন্ন হচ্ছে দেশী মাছ। গবেষকরা বিপন্ন প্রজাতির যে ৫৪টি মাছের নাম নির্ধারণ করেছেন তার একটি দেশীয় সুস্বাদু মাছ ‘ফুটকি বুজুরি বা বাজারিয় টেংরা’। সাধারণত নদী, হাওর ও বিলে এই মাছের বসবাস। এটি একটি বিপন্ন প্রজাতির মাছ। এই মাছ এখন তেমন একটা দেখা যায় না। এই মাছ সিলেটে সাধারণত হাকালুকি, হাইল ও টাংগুয়ার হাওরে বা বিভিন্ন বিলে পাওয়া যায়।

সম্প্রতি সুনামগঞ্জে এমন একটি মাছের দেখা পেয়েছেন মৎস্য কর্মকর্তারা। মাছের নাম ফুটকি বুজুরি বা বাজারিয় টেংরা। ইংরেজি নাম: Asian Cory. বৈজ্ঞানিক নাম: Rama Chandramara (Hamilton) ।

কুলাউড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ জাগো নিউজকে জানান, ফুটকি বুজুরি মাছের দেহ লম্বা ও দৃঢ়। পৃষ্টদেশ উত্তল। মাথা ছোট ও ত্রিকোণাকার। মাথার উভয় পাশে ও নিচে উন্মুক্ত ছিদ্র আছে। মাথা চোখের ৩.৫-৪ গুণ বড়। চোখ বড় বড়।পৃষ্ঠ পাখনা খাটো, বক্ষ পাখনা শেষ-চতুর্থাংশ অবধি বিস্তৃত। পায়ূ পাখনা মাঝারি। বক্ষ পাখনা দীর্ঘ, শ্রোণি পাখনার গোড়া পর্যন্ত বিস্তৃত। পুচ্ছ পাখনা দ্বি-বিভক্ত। পার্শ্বরেখা সম্পূর্ণ, বক্ষ পাখনার অগ্রে ছিদ্রযুক্ত। কানসা রশ্মি ৬টি। পৃষ্ঠ ও পার্শ্বদেশ হলুদাভ, উদর সাদা, সারা দেহে অসংখ্য কালোপোনা ফোঁটা রয়েছে। মাছটির সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ৫.৭ সেমি।

তিনি আরও জানান, অভয়াশ্রম স্থাপনের মাধ্যমে বিপন্ন এবং বিরল প্রজাতির মাছ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

রিপন দে/আরএআর/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।