৪৮ বছর ধরে মুক্তাহার নদীর তীরে বসছে মেলা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৯:০৬ পিএম, ২৬ মার্চ ২০১৮

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় যুগ যুগ ধরে স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসে অনুষ্ঠিত হয় গ্রাম্যমেলা। প্রতি বছরে ২ দিনব্যাপী চলে এই মেলা। ২৬ মার্চ এই গ্রাম্যমেলার উৎসবের আমেজে রঙিন হয়ে ওঠে পুরো গ্রাম।

সেইসঙ্গে দোকানিরা মেলার মাঠে পসরা সাজিয়ে বসে। সোমবার ভোর থেকেই শিশু-কিশোররা শুরু করে ছোটাছুটি। এই মেলার উৎসবকে আরও বাড়িয়ে দিতে নবজাগরণ সমিতি কর্তৃক দিনব্যাপী ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ৪৮ বছরের পুরনো ঐতিহ্য উল্লাপাড়া উপজেলার মুক্তাহার নদীর তীরে বটতলার বসে এ গ্রামীণ মেলা। শুরুতে মেলাটি অনেক ছোট থাকলেও বর্তমানে মেলাটির পরিসর বেড়ে এই এলাকার মানুষের প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়েছে। সকালের সূর্য্যালো কাটতেই মেলা প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে নানা বয়সী মানুষের পদচারণায়।

SIRAJGONG

দোকানিদের পসরায় রয়েছে, ধরে টমটম গাড়ি, চড়কি, নানা রঙের পুতুল, বেলুন জুড়ি, মুড়কি, মিষ্টি, জিলাপি, মাছসহ আরও অনেক কিছু। সঙ্গে মেয়েরা কিনছে মাটির হাড়ি, পিঠা তৈরির সাঝ, পিড়ি, মালসা, ও রান্নার করা জিনিসপত্র।

এদিকে, নাগরদোলা, ঘূর্ণি বিদেশ, বেলুন-বন্দুক নিশানায় মেতে ওঠে নানা বয়সী শিশু-কিশোরের দল। আলু-ডাবলির সঙ্গে তেঁতুলের পানি মেশানো ঝাল-টক চটপটি নস্টালজিক বয়স্কদের জিভেও পানি আসে।

মেলায় আসে কুমারদের মাটির গড়া স্বপ্ন। তারা মাটি দিয়ে তৈরি করেন দেশি-বিদেশি ফলের রঙিন ব্যাংক, সাহেব-মেম, বউ পুতুল, গরু, ছাগল, হাতি, বাঘ, সিংহ, ঘোড়া, কুমির, হাঁস, মুরগি, মাছ ও পেখমমেলা ময়ূর পাখি।

SIRAJGONG

মেলায় আসা শিশু রোকেয়া, সুমাইয়া, সাদিয়া ও মুনমুন জানায়, আমাদের এখানে বিনোদনের কিছু নেই। তাই প্রতিবছর এই মেলার দিকে তাকিয়ে থাকি। মেলা আসলে আমাদের আনন্দের শেষ থাকে না। প্রতিবছর আমরা এই মেলা থেকে অনেক কিছু কিনি।

স্থানীয় নবজাগরণ সমিতির সভাপতি গোলাম মওলা মাস্টার জানান, বর্তমানে এখানে আর কোনো গ্রাম নেই। স্থানীয় নানা কল-কারখানা গ্রামীণ পরিবেশ নষ্ট করে ফেলেছে। তবে মেলায় বিক্রি হোক আর না হোক বছরের পুরনো ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতেই প্রতি বছর এ মেলার আয়োজন করে থাকে স্থানীয় কিছু সংস্কৃতিমনা মানুষ। এই মেলার উৎসবকে আরও বাড়িয়ে দিতে নবজাগরণ সমিতি কর্তৃক দিনব্যাপী ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

তিনি আরও জানান, স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস সবার মাঝে তুলে ধরতে সন্ধ্যা থেকে রাতে অনুষ্ঠিত হয় নাটক ‘একাত্তরের ঘাতক’।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এএম/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।