চুরি হচ্ছে রেললাইনের মালামাল, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

রিপন দে
রিপন দে মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ১১:২৮ এএম, ২৭ মার্চ ২০১৮ | আপডেট: ০৩:০৫ পিএম, ২৭ মার্চ ২০১৮

বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট-আখাউড়া সেকশনে বার বার যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিচ্ছে আন্তঃনগর রেলগুলোতে। এতে আতঙ্কিত হচ্ছেন যাত্রীরা। প্রশ্ন উঠেছে এই সেকশনে চলাচলকারী রেলের মান নিয়ে। রেলের এসব দুর্ঘটনা, যাত্রীসেবার মান, যাত্রীদের ভোগান্তি ও বিভিন্ন সংকট নিয়ে পাঁচ পর্বের প্রতিবেদন করেছেন জাগো নিউজের মৌলভীবাজার প্রতিনিধি। আজ থাকছে তার চতুর্থ পর্ব

রেল লাইন থেকে অব্যাহতভাবে চুরি হচ্ছে পাথর থেকে শুরু করে ক্লিপ-হুকসহ অনান্য যন্ত্রাংশ। ফলে দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে সিলেট-আখাউড়া রেললাইন। রেললাইনের সঙ্গে সংযুক্ত ক্লিপ-হুক চুরির কারণে দুর্বল হয়ে পড়েছে রেলসেতু ও কালভার্ট। ফলে ট্রেন চলাচলের সময় যে কোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

সরেজমিনে মৌলভীবাজারের সমশেরনগর, কুলাউড়া, শ্রীমঙ্গলসহ আশপাশের কয়েকটি রেল স্টেশন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে রেলপথের পাথর পড়ে আছে। অনেক জায়গায় পাথর চুরি করে নিচ্ছে স্থানীয়রা। নাট-বল্টু দিয়ে রেল লাইন আটকানো থাকে কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় তা নেই। ক্লিপ, নাট-বল্টু চুরি হওয়ার ফলে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে রেলপথ। দুই লাইনের জোড়া দেয়া স্থানেও ক্লিপ চুরি হয়ে গেছে। দিনের পর দিন ক্লিপ-হুক, নাট-বল্টু, ফিসপ্লেট চুরি হয়ে যাওয়ায় রেলপথটি অধিকতর ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

লোকসানের ঝুঁকি কমাতে কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেললাইনে রেল চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয় ২০০২ সালে। এর পর থেকে কুলাউড়া-শাহবাজপুর ২০ কিলোমিটার রেললাইনের মূল্যবান নাট-বল্টু, ক্লিপ, শিক ও পাথরসহ মালামাল সংরক্ষণাগারে রাখার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের সহায়তায় কোটি কোটি ঠাকার মালামাল চুরি হয়েছে। বর্তমানে এই পরিত্যক্ত লাইনটি পুনরায় চালু করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

জেলার বিভিন্ন রেলসেতুসহ রেলপথের কয়েকটি কালভার্ট ঘুরে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের পুরনো জীর্ণশীর্ণ এসব কালভার্ট বিনষ্ট হয়ে গেছে। ঠিকমত ক্লিপ না থাকায় ভিম সরে ফাঁকা হয়ে গেছে। কালভার্টসমূহের হুক-ক্লিপসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চুরি হয়ওয়ায় ঝুঁকি বাড়ছে সিলেট-আখাউড়া রেল পথে। চুরি যাওয়া এসব যন্ত্রাংশ দ্রুত লাগানোর নিয়ম থাকলেও বছরের পর বছর তা লাগানো হচ্ছে না। ফলে এই পথে দিয়ে দ্রুতগতিতে রেল চলাচল ব্যহত হচ্ছে।

rail-line-1

কুলাউড়াড় শহরের সমাজকর্মী এম এম সুমন জাগো নিউজকে জানান, মালামাল চুরির ফলে রেললাইন দুর্বল হয়ে গেছে। তার প্রমাণ ঢাকা বা চট্টগ্রাাম খেকে সিলেট আসার পথে আখাউড়া ক্রস করার পর রেলের গতি কমে যায়। কারণ রেললাইন দুর্বল তাই গতি কমাতে হয়।

এ ব্যাপারে সিলেট রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন সহকারী প্রকৌশলী (পথ) এরফানুর রহমান জানান, বিভিন্ন সময়ে রেললাইনের ক্লিপগুলো চুরি হয়েছে। লোকবল সংকটের কারণে বিভিন্ন স্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং অনেক স্টেশনে পর্যপ্ত জনবল না থাকার কারণে তারা রেললাইন তদারকি করতে পারছেন না।

আরএআর/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :