রোদ বেড়ে গেলেই বদলে যায় শিক্ষার্থীদের স্থান

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ০৭:৫১ পিএম, ২৮ মার্চ ২০১৮ | আপডেট: ০৮:২৩ পিএম, ২৮ মার্চ ২০১৮

বিদ্যালয় ভবন নদীগতে বিলীন হওয়ার ৮ মাস পেরিয়ে গেলেও গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানী ইউনিয়নের গোঘাট গ্রামের কলমু এফএনসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিজস্ব একটি জায়গা হয়নি। গড়ে ওঠেনি অবকাঠামো। এখন কামারজানী উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মাঠে বস্তা পেতে বসে পাঠদান করানো হচ্ছে এই বিদ্যালয়ের দেড়শ শিক্ষার্থীকে।

এতে করে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে কোমলমতি এসব ছাত্রছাত্রীদের। এখন যেখানে পাঠদান করানো হচ্ছে যে কোনো সময় সামান্য বৃষ্টি হলেই সেখানে পানি জমে থাকবে। ফলে বন্ধ হয়ে যাবে তাদের পাঠদান। তাই শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রাখতে হলে জরুরিভাবে নিজস্ব অবকাঠামোয় বিদ্যালয়টি স্থানান্তর করা প্রয়োজন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়টি ১৯৪৫ সালে স্থাপিত হয় আর সরকারিকরণ করা হয় ১৯৭৩ সালে। শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন ৪ জন এবং শিক্ষার্থী রয়েছে ১৫১ জন।

Gaibandha1

২০১৭ সালের ১৭ জুলাই বিদ্যালয়টির ভবন নদীগতে বিলীন হয়ে যায়। এরপর থেকে কামারজানী উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মাঠে পাঠদান করানো হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এসব শিক্ষার্থীদের পাঠদানে লিখতে, বসতে, উড়ে আসা ধুলাবালি ও রোদের কারণে গরমে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, কামারজানী উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে মাঠের উত্তর পাশের নিচু জায়গায় বাঁশের খুঁটি পুঁতে তার উপরে টিন দিয়ে ছায়ায় বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বাড়ি থেকে প্লাস্টিকের বস্তা এনে বসে পড়াশোনা করে প্রতিদিন।

পাশের রাস্তা দিয়ে মোটরসাইকেল চলাচলের সময় রাস্তার ধুলো-বালি উড়ে এসে গায়ে পড়ছে শিক্ষার্থীদের। রোদ থেকে রক্ষা পেতে প্রতি ঘণ্টায় ঘণ্টায় জায়গা বদল করে শিক্ষার্থীরা। এছাড়া এখন যেখানে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছে সে জায়গাটা নিচু। সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে সেখানে। ফলে এমনটা হলে আসছে বৈশাখ মাসে কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে বৃষ্টির কারণে পানি জমে থাকায় পাঠদান বন্ধ রাখতে হবে এসব কোমলমতি শিক্ষার্থীদের।

Gaibandha1

তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী চম্পা রানী, মাহিয়া মাহবুবা, ফুয়াদ মিয়া এবং পঞ্চম শ্রেণির কুইল মিয়া ও ইশিতা আক্তার জানায়, আমাদের নিজেদেরকে বাড়ি থেকে বস্তা এনে বসে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। রোদের কারণে গরমে পড়ায় মনোযোগ নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া জায়গা কম থাকায় বসে লিখতে ও পড়তে সমস্যা হচ্ছে। রাস্তা দিয়ে সাইকেল-মোটরসাইকেল চলাচলের সময় ধুলা উড়ে এসে চোখে-মুখে পড়ে। আমরা খুব সমস্যায় আছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, বিদ্যালয়টির সভাপতি জমির ব্যবস্থা করবেন বলে শুধু সময়ক্ষেপণ করছেন। তিনি প্রকৃতপক্ষে বিদ্যালয়ের জমি ও অবকাঠামো নির্মাণের জন্য কোনো উদ্যোগই নিচ্ছেন না। এভাবে পড়াশোনা করার কারণে ছাত্রছাত্রীদের পড়ায় মনোযোগ থাকে না। তারা পিছিয়ে যাচ্ছে। আর বৃষ্টি শুরু হলেই বন্ধ রাখতে হবে লেখাপড়া।

প্রধান শিক্ষক মোছা. আফরোজা বেগম বলেন, শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো নিয়ে আমাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। রাস্তা দিয়ে মোটরসাইকেল চলাচলের সময় ধুলা উড়ে এসে চোখে-মুখে পড়ে। আমরা এখন যেখানে আছি বৃষ্টি হলেই সেখানে পানি জমে থাকবে। ফলে পড়ালেখা বন্ধ রাখতে হবে। খুব তাড়াতাড়ি নিজস্ব জায়গা ও ভবন দরকার আমাদের।

বিদ্যালয়টির সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের জন্য ২৮ শতাংশ একটি জমি ক্রয় করা হয়েছে। আগামী মাসে দলিলের কাজ শেষ করতে পারলে ওই জায়গায় মাটি ভরাট করে উঁচু করা হবে ও অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আমিনুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, বিদ্যালয়টির বিস্তারিত তথ্য আমরা অধিদফতরে পাঠিয়েছিলাম। উপজেলা শিক্ষা অফিসের কাছে কিছু বরাদ্দ এসেছে।

রওশন আলম পাপুল/এমএএস/এমএস