লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে বিচরণ কালা মথুরার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ০৪:১৮ পিএম, ৩১ মার্চ ২০১৮

দিন দিন মানুষের দখলে চলে যাচ্ছে বন্যপ্রাণির আবাসস্থল। বন্যপ্রাণিদের বাসস্থান দখল করে মানুষ গড়ছে ঘর-বাড়ি ও কল-কারখানা। বন উজাড় হচ্ছে যত বেগে ঠিক তত বেগে হারিয়ে যাচ্ছে বন্যপ্রাণি।

দেশের প্রতিটি বন হারাচ্ছে জীব-বৈচিত্র্য। হুমকির মুখে আছে বেশির ভাগ প্রজাতির প্রাণির ভবিষৎ। এভাবে চলতে থাকলে একদিন হয়তো শুধু ছবির পাতাতেই খুঁজে পাওয়া যাবে প্রাণিজগৎ।

jagonews24

হাজারও বৈচিত্র্যময় প্রাণিতে ভরপুর ছিল এই সবুজ শ্যামল বাংলাদেশ। যা এখন অনেকটাই নেই। প্রাণি জগতের বেণিরভাগ প্রাণি আজ বিরল বা বিপন্ন প্রজাতিতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।

সুন্দর এই প্রাণিদের একটি হচ্ছে 'কালা মথুরা বা কালো ময়ুর'। কালা মথুরাকে সাধারণত মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ সিলেট এবং চট্টগ্রামে চির সবুজ বনে দেখা যায়। এরা বনের পাশে, জঙ্গলসংলগ্ন স্থান ও বাশেঁর ঝোপে ছোট ছোট দলে বা জোড়া জোড়ায় মিলে বিচরণ করে।

jagonews24

কালা মথুরা দেখতে অতি সুন্দর। এই পাখি সহজের নজরকাড়ে যে কারও। কালা মথুরা কালচে নীল রংঙের ভূ-চর পাখি। এদের দৈর্ঘ্য কম বেশি ৬২ সেন্টিমিটার, ডানা ২২ সেন্টিমিটার, ঠোঁট ৩.৫ সেন্টিমিটার, পা ৭.৫ সেন্টিমিটার, লেজ ২৩ সেন্টিমিটার ও ওজন ১.৩ কেজি।

পুরুষ পাখির পিঠ উজ্জ্বল নীল রঙের। পাখার পালক খাড়া থাকে। কোমর ও পেছনের পালকের প্রান্ত সাদা। স্ত্রী পাখির মাথার চূড়া ও লেজের পালক হালকা বাদামি রংঙের। পুরুষ এবং স্ত্রী উভয় পাখির চোখ পিঙ্গল থেকে কমলা-বাদামি। চোখের পাশের পালকহীন চামড়া টকটকে লাল। পা এবং পায়ের পাতা বাদামি রংঙের।

jagonews24

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মিহির কুমার দো জাগো নিউজকে জানিয়েছেন, কালা মথুরা খাদ্য হিসেবে বাশঁ বীজ, ডুমুর, পিঁপড়া, উইপোকা, ছোট সাপ, টিকটিকি ইত্যাদি খেয়ে থাকে। সাধারণত মাটি থেকে কুড়িয়ে খাবার খায়।

তিনি আরও জানান, মার্চ থেকে অক্টোবরের ভেতরে এরা প্রজনন সম্পন্ন করে থাকে।

রিপন দে/এমএএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।