গাইবান্ধায় ডায়রিয়া পরিস্থিতির অবনতি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ০৬:৫৬ পিএম, ০১ এপ্রিল ২০১৮

গাইবান্ধায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আগের চেয়ে বেড়ে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। শনিবার দুপুর দেড়টার পর থেকে রোববার দুপুর ২টা পর্যন্ত জেলা সদর হাসপাতালে আরও ৭৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এরমধ্যে রোববার সকালে চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে ৩০ জনকে।

জেলা সদর হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত বুধবার সকাল থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত ২২৩ জন রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে ১৩৩ জনকে। পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। তিন জন মেডিকেল অফিসার সকাল, বিকেল ও রাতে শুধু ডায়রিয়া রোগীদের সেবায় কাজ করবেন। এর পাশাপাশি একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

Gaibandha

রোববার দুপুরে সরেজমিনে হাসপাতালে দেখা গেছে, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বেডের সংকুলান না হওয়ায় মেঝেতে ও হাসপাতালের ভেতরের করিডরে মেঝেতে বিছানা তৈরি করে রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ডায়রিয়া রোগীদের সেবায় স্কাউটসের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছে। জরুরী বিভাগের সামনে গাইবান্ধা পৌরসভার উদ্যোগে টিন দিয়ে একটি প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে। হাসপাতালের ভেতরে জায়গার সংকুলান না হলে এখানে রোগী ভর্তি করে রাখা হবে।

এদিকে রোববার সকালে ঢাকার মহাখালীর রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) ছয় সদস্যের একটি অনুসন্ধানী দল গাইবান্ধায় এসে মানুষের মল ও পানির নমুনা সংগ্রহ করেছেন। তারা আগামী সোমবারও গাইবান্ধায় কাজ করবেন। এর আগে শনিবার বগুড়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের দুই সদস্যের একটি দল পৌরশহরের ডেভিড কোম্পানি পাড়ায় এসে পানির নমুনা সংগ্রহ করে বগুড়া ফিরে যায়। দলটি পানি পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে প্রতিবেদন প্রকাশ করবে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

Gaibandha

জেলা সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. অমল চন্দ্র সাহা মুঠোফোনে জাগো নিউজকে বলেন, ডায়রিয়া পরিস্থিতি মোকাবেলায় অন্যখানে থেকে ডাক্তার ও নার্স নিয়ে আসা হয়েছে। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ওষুধ ও অন্যান্য উপকরণ রয়েছে। অতিরিক্ত বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে, হাসপাতালের ভেতরে জায়গা সংকুলান না হলে সেখানে রোগীদের স্থানান্তর করা হবে।

Gaibandha

তিনি আরও বলেন, বগুড়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উদ্যোগে পানির নমুনা সংগ্রহ করার ফলাফল সোমবার পাওয়া যাবে। এ ছাড়া রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) দলটি ঢাকায় ফিরে পরীক্ষা-নীরিক্ষা শেষে প্রতিবেদন জানাবে।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার থেকে গাইবান্ধা শহরের বিভিন্ন এলাকার মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়। হাসপাতালে দিনদিন বাড়ছে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এর আগে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে গাইবান্ধা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ডায়রিয়ার প্রকোপে প্রায় ১ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়ে জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি হয়।

রওশন আলম পাপুল/আরএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।