নেত্রকোনায় বোরো ধানের বাম্পার, আধুনিক যন্ত্র চায় কৃষকরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ০৫:৩৫ পিএম, ০২ এপ্রিল ২০১৮

নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। চলতি বছর বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। কোনো প্রকার দুর্যোগের কবলে না পড়লে গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবেন কৃষকরা।

জেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এবছর নেত্রকোনায় বোরোর আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৮১ হাজার ২৩৮ হেক্টর। অর্জিত হয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৯৩০ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩ হাজার ৬৯২ হেক্টর জমিতে বেশি আবাদ হয়েছে ধান। আর হাওরাঞ্চলে বোরোর আবাদ হয়েছে ৪১,০১০ হেক্টর জমিতে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকের কষ্ট স্বার্থক হবে এবছর।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, জেলায় মোট ৩শ কিলোমিটার ডুবন্ত বাঁধ রয়েছে। যার ১শ কিলোমিটারের মতো অংশে এলজিইডি ও সড়ক বিভাগ তাদের রাস্তা নির্মাণ করেছে। বাকি অংশের ৮৫-৯০ কিলোমিটার সংস্কারের জন্য এবছর সরকার বরাদ্দ দিয়েছে ১৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। পিআইসি কমিটির মাধ্যমে ইতোমধ্যে বাঁধের কাজও সমাপ্ত হয়েছে। এর মধ্যে মোহনগঞ্জের ডিঙ্গাপোতাসহ বড় বড় বেশ কয়েকটি হাওরে বোরো ফসল কাটতে শুরু করেছে কৃষক।

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার তেতুলিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ জানান, হাওরে বোরোর ফলন খুব ভালো হয়েছে। ধান কাটা শুরু হয়েছে। ফসল ঘরে তুলতে পারলে গত বছরের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

খালিয়াজুরী উপজেলার বোয়ালী গ্রামের কৃষক খোকন মিয়া জানান, ধান পাকতে শুরু করেছে। টুকটাক ধান কাটা চলছে। এক সপ্তাহ পরে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হবে। আগাম বন্যা না এলে এবার বেশি ফসল ঘরে ওঠবে।

Netrokona1

খালিয়াজুরী উপজেলার খালিয়াজুরী গ্রামের কৃষক রহমত আলী বলেন, আমি এবার ২২ একর জমিতে বোরোর আবাদ করেছি। বাম্পার ফলন হয়েছে। যদি ন্যায্য ধানের মূল্য পাই তাহলে গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবো। কিছু কিছু উঁচু জমিতে ব্রি-২৮ জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে। আগামী এক সপ্তাাহের মধ্যে পুরোপুরি ধান কাটা শুরু হবে।

নেত্রকোনা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিলাশ চন্দ্র পাল জানান, এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ১০/১২ দিনের মধ্যে হাওরাঞ্চলে পুরোদমে বোরো ধান কাটা শুরু হবে। এবছর ফলন ভালো হয়েছে। হাওরের বাঁধ নির্মাণে কোনো প্রকার গাফিলতি পরিলক্ষিত হয়নি। আশা করছি কৃষকরা তাদের কষ্টার্জিত ফসল ঘরে তুলতে সক্ষম হবে।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান জানান, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পিআইসি কমিটি করা হয়েছে। বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবছর কৃষকের বোরো ফসল সুন্দর ভাবে ঘরে উঠবে।

নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম জানান, বিশাল হাওরে একসঙ্গে বোরো ধান পাকে তাই আধুনিক ধান কাটার যন্ত্র দিয়ে দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দিচ্ছি। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলে কৃষকদের সহযোগিতার করার চেষ্টা করছি।

কামাল হোসাইন/এএম/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।