পারিশ্রমিক নেয়ার সময় টাকার বান্ডিল দেখে ফেলে ওরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ০৭:৪৭ পিএম, ০২ এপ্রিল ২০১৮

নেত্রকোনায় নিজ বাড়িতে দম্পতি খুনের প্রায় ছয় মাস পর অবশেষে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

সোমবার বিকেলে ময়মনসিংহের পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু বক্কর সিদ্দিকসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

পিবিআই জানায়, নেত্রকোনা শহরের সাতপাই এলাকার কাশেম মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়া (২১), হেলাল উদ্দিনের ছেলে পলাশ মিয়া (২২), সালাম মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়া (২১) ও পারলা এলাকার কাশেম মিয়ার ছেলে আতিকুল (১৯) নাগড়া এলাকার হাকিম মিয়ার ছেলে পলাশসহ (২১) ছয়জন গত বছরের ১০ অক্টোবর সন্ধ্যায় বাসায় ঢুকে ওই দম্পতিকে হত্যা করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়।

তিনদিন পর ১৩ অক্টোবর স্থানীয়রা টের পেয়ে পুলিশকে সংবাদ দিলে শুক্রবার দুপুরে শহরের সাতপাই এলাকায় বাবলু সরনি সড়কের পাশের বাড়ি থেকে মিহির কান্তি বিশ্বাস (৭০) ও তার স্ত্রী তুলিকা রানী চন্দ ওরফে সবিতার (৫৮) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় গতকাল রোববার পাঁচজনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সোমবার বিকেলে আদালতে হাজির করলে ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আসামিরা।

স্থানীয় বাসিন্দা পুলিশ ও নিহত দম্পতির স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের আধাপাকা বাড়িটিতে মিহির কান্তি ও তুলিকা চন্দ একাই থাকতেন। এলাকায় তারা সজ্জন হিসেবে পরিচিত। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলে সুমন বিশ্বাস ঢাকায় আর মেয়ে সুস্মিতা বিশ্বাস (৩২) সিলেটে স্বামীর সঙ্গে থাকেন।

এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের ছেলে সুমন বিশ্বাস বাদী হয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় খুনসহ ডাকাতির মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়। হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে পুলিশের পাশাপাশি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি), বিশেষ শাখা (ডিএসবি), র্যাব ও পিবিআই কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

তারা বিভিন্ন আলামতও সংগ্রহ করে। মরদেহ উদ্ধারের দুইদিন পর শহরের সাতপাই নদীরপাড় এলাকার নয়ন মিয়া (৪০) ও সাতপাই পালপাড়া এলাকার সালমান মিয়া (২৪) নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। ওই মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

এদিকে, ওই খুনের রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় মামলাটি গত ৭ নভেম্বর পিবিআইতে স্থানান্তর করা হয়। নেত্রকোনা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে ময়মনসিংহের পিবিআইকে তদন্ত করতে দেয়া হয় মামলাটি।

জানতে চাইলে পিবিআই ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আসামিদের গ্রেফতার করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য বের করেছি।

তিনি বলেন, আসামিরা ১০ অক্টোবর সকালে ওই বাসায় কাজের লোক হিসেবে কাজ নেয়। বিকেলে মিহির কান্তির স্ত্রী তুলিকা চন্দ ড্রয়ার খুলে তাদের পারিশ্রমিক দেন।

ওই সময় টাকা দিতে গেলে ড্রয়ারে আরও অনেক টাকার বান্ডিল আছে দেখতে পায় আসামিরা। পরে পারিশ্রমিক নিয়ে চলে যায় তারা। একইদিন সন্ধ্যার পর বাসায় পেছনের দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। ড্রয়ার খুলে টাকা ও স্বর্ণালংকার নেয়ার সময় প্রথমে মিহির কান্তি দেখে ফেলেন।

এ সময় আসামিরা মিহির কান্তিকে গলা টিপে হত্যা করে। মিহির কান্তিকে গলা টিপে হত্যার সময় স্ত্রী তুলিকা চন্দ এগিয়ে এলে তাকেও গলা টিপে হত্যা করা হয়। সোমবার বিকেলে আদালতে হাজির করলে ১৬৪ ধারার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় আসামিরা।

কামাল হোসাইন/এএম/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।