চলাচলের রাস্তায় বেড়া : ১২টি পরিবার অবরুদ্ধ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ১১:৫০ এএম, ০৩ এপ্রিল ২০১৮

নওগাঁর মান্দায় চলাচলের রাস্তায় বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী। উপজেলার বিষ্ণপুর ইউনিয়নের পারশিমলা গ্রামের দক্ষিণপাড়ার রাস্তায় বেড়া দেয়ায় গত ১১ দিন থেকে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে ওই গ্রামের ১২টি পরিবার। ভ্যান চলাচলের রাস্তা না থাকায় তারা নিত্যপ্রয়োজনী পণ্য বিক্রি করতে হাট-বাজারে যেতে পারছেন না। সমস্যা সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারশিমলা গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় হিন্দু-মুসলিমসহ ১২টি পরিবারের শতাধিক মানুষ বসবাস করেন। গত ২৪ মার্চ সকালে স্থানীয় প্রভাবশালী মোহাম্মদ আলীর ছেলে আব্দুস সামাদ, আফছার ও আলমগীর এলাকাবাসীদের কাউকে কিছু না জানিয়ে তাদের আম বাগানের জমির সীমানা ঘেঁষে বাঁশের খুঁটি পুতে বেড়া দেন। ওই পাড়ার বাসিন্দারা তাদের বাপ-দাদার আমল থেকে আম বাগানের শেষ সীমানা পর্যন্ত রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। সীমানার কিছু অংশ স্থানীয় শাহাদত শেখের ছেলে সাইদুল ইসলামের জায়গাও রয়েছে। তার অংশের উপরও বেড়া দিয়েছেন ওই প্রভাবশালীরা।

হঠাৎ করে তারা বেড়া দেয়ায় সম্যসার মধ্যে পড়তে হয়েছে। ওই পাড়ার বাসিন্দারা যোগাযোগের জন্য ভ্যান ও সাইকেল নিয়ে যেতে পারছেন না। ভ্যান চলাচলের রাস্তা না থাকায় নিত্যপ্রয়োজনী পণ্য বিক্রি করতে হাট-বাজারে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। গ্রামের কুপার বিল (মাঠ) থেকে উৎপাদিত ফসলাদি ওই রাস্তা দিয়ে পাড়ায় নিতেন বাসিন্দাররা। রাস্তাটি বন্ধ হলে তাদের দুঃখের সীমা থাকবে না।

ওই পাড়ার বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম বলেন, আমার বাড়ির পেছন দিয়ে রাস্তাটি ছিল। রাস্তায় আমাদের জমির কিছু অংশ আছে। কিন্তু তারা প্রভাবশালী হওয়ায় আমার জমির উপর দিয়ে অন্যায়ভাবে বাঁশের বেড়া দিয়েছে। তারা খুবই প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে তাদের কিছু বলতে পারছি না। এখন আমরা বাড়ি থেকে বাহিরে যেতে পারছি না।

Naogaon-Manda-Pic2

ওই পাড়ার বাসিন্দা রশের আলী, আফজাল হোসেন, কাশেমসহ কয়েকজন বলেন, জন্মের পর থেকে ওই রাস্তাটি আমরা দেখে আসছি এবং চলাচল করতাম। কিন্তু হঠাৎ করে তারা আমাদের কোনো কিছু না জানিয়ে বেড়া দিয়েছে। আমাদের চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে পড়েছে। কয়েকদিন পর জমি থেকে ধান উঠবে। বাড়িতে নিয়ে আসাও সম্ভব হবে না। হাট-বাজারে ভ্যানে করে কিছু নিয়ে যেতে পারছিন না। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তারা।

জমির মালিক আব্দুস সালাম বলেন, আমার জমিতে আমি যা ইচ্ছে তাই করব। ওই পাড়ার মানুষরা আমাদের আম গাছের সঙ্গে গরু বেঁধে রাখে। তারা সব সময় আমাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করে। এ কারণে আমরা বেড়া দিয়েছি। এ গ্রামের অধিকাংশ জমি আমাদের। দরকার হলে বাড়ি থেকে তাদের বের হতে দিব না।

স্থানীয় বিষ্ণপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার আবু তালেব বলেন, এলাকার মধ্যে ওই পরিবারটি খুবই প্রভাবশালী। তাদের কাছে এলাকাবাসী এক প্রকার জিম্মি। তারা যা ইচ্ছে তাই করতে পারে। অকারণে এলাকার মানুষদের মারপিট করে এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে। গ্রামের মানুষরা এসব নিয়ে অতিষ্ট।

মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে শুনেছি। শিগগিরই রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

আব্বাস আলী/আরএআর/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :