দরজা-জানালা বন্ধ করে অধ্যক্ষকে পেটালেন আ.লীগ নেতা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শেরপুর
প্রকাশিত: ১০:০৩ পিএম, ০৩ এপ্রিল ২০১৮

শেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির মারধরে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন সদর উপজেলার লছমনপুর এলাকায় জমসেদ আলী মেমোরিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম রেজা।

মঙ্গলবার দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসে এ মারধরের ঘটনা ঘটে। আহত অধ্যক্ষ শহিদুল রেজাকে উদ্ধার করে শেরপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ।

আহত অধ্যক্ষ শহিদুলের অভিযোগ, কলেজের গভর্নিং বডির (পরিচালনা কমিটি) সভাপতি জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মিনহাজ উদ্দিন মিনাল এবং তার ভাতিজা জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি শাকিল তাকে মারধর করেছেন।

অধ্যক্ষ আরও বলেন, দাপ্তরিক কাজের কথা বলে সভাপতি মিনহাজ উদ্দিন মঙ্গলবার সকালে আমাকে কলেজে ডেকে নিয়ে যান। অধক্ষের চেয়ারে বসা মাত্রই সভাপতি মোটরসাইকেলে কলেজে প্রবেশ করে আমাকে উপাধ্যক্ষের অফিসে ডেকে নেয় এবং এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের ২ লাখ ১০ হাজার টাকা দিতে বলে।

সেই টাকা দিতে অস্বীকার করলে দুইটি সাদা কাগজ বের করে অধ্যক্ষের পদ থেকে পদত্যাগ করতে বলেন অথবা ৫০ লাখ টাকার মুচলেকা দিতে বলেন। স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করলে সভাপতি উত্তেজিত হয়ে আমাকে মারধর করেন।

এরপর সভাপতির ভাতিজা শাকিল কলেজে থাকা কয়েকজন শিক্ষককে বের করে দিয়ে দরজা-জানালা বন্ধ করে চাচা-ভাতিজা মিলে আমাকে পেটায়। একপর্যায়ে পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে। অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম রেজা জানান, সভাপতি মিনাল ও তার ভাতিজা শাকিলের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

কলেজের একটি সূত্রে জানা যায়, কলেজের নিয়োগ সংক্রান্ত টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গভর্নিং বডির সভাপতি ও অধ্যক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব বিরাজ করছিল।

এরই জের ধরে এ ঘটনা ঘটে। ২০১০ সালে অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম রেজা জমসেদ আলী মেমোরিয়াল কলেজে যোগদান করেন। ২০১৭ সালের ১০ জুন অধ্যক্ষকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

অধ্যক্ষ দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে গত বছরের ৫ ডিসেম্বর সপদে ফিরে আসেন। তবে সভাপতি ও অধ্যক্ষের মধ্যে নানা কারণে দ্বন্দ্ব চলছে।

হাকিম বাবুল/এএম/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :