এতিমখানায় জমি দান করে মামলা খেলেন দাতা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ০৭:২৬ পিএম, ০৪ এপ্রিল ২০১৮

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের গয়ড়া বাজারে পৈতৃক সূত্রে সাড়ে ৫ শতক জমি পাই আমি। ২০০৪ সালে ওই জমি থেকে পৌনে ৫ শতক জমি দারুল আতফাল তাহফিজুল কোরআন হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার নামে দানপত্র করে দিই।

এরপর অবশিষ্ট পৌনে ১ শতক জমিতে একটি দোকান ঘর নির্মাণ করে হাসান কবির নামের এক ব্যক্তির কাছে ভাড়া দিই। জাগো নিউজকে এসব কথা জানান গয়ড়া বাজারের আলহাজ লিয়াকত আলী।

তিনি বলেন, হঠাৎ হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহাজান আলী মাদরাসায় দান করা জমি কম আছে এমন অভিযোগ এনে গত ২২ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৫ ধারায় আমার বিরুদ্ধে মামলা করেন। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন।

এরই মধ্যে হঠাৎ মঙ্গলবার দুপুরে মাদরাসা ও এতিমখানা কর্তৃপক্ষ গায়ের জোরে আমার ভাড়া দেয়া দোকানটির দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেয়।

এ বিষয়ে দোকানটির ভাড়াটিয়া হাসান কবির বলেন, আলহাজ লিয়াকাত আলীর কাছ থেকে দোকান ঘরটি ২০০৭ সাল থেকে ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছি। গত মাস তিনেক আগে থেকে মাদরাসা ও এতিমখানা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহাজান আলী আমার কাছে ভাড়া চাওয়া শুরু করেন। আমি বলেছি, আমি যার কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছি তার কাছেই ভাড়া দেব। এরপর সভাপতি শাহাজান আলী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম ও নাসিরউদ্দীন মিলে দোকানে তালা দিয়ে যায়।

জানতে চাইলে আতফাল তাহফিজুল কোরআন হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিম খানা ম্যানেজিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম বলেন, আমি কিছুই জানি না। সভাপতি সব জানেন। আমি দোকানে তালা দিইনি। তালা দিয়েছেন সভাপতি।

তবে তালা দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে কমিটির সভাপতি শাহাজান আলী বলেন, মসজিদের ১ শতক জমি ওর বোনের বিল্ডিংয়ের ভেতরে চলে গেছে। এছাড়া দলিলে যতটুকু জমি আছে সবই সে মাদরাসার নামে লিখে দিয়েছে। তার দোকানে আমি তালা দিয়েছি কি দিইনি সেটা মোবাইলে বলা যাবে না। আপনি মনে করেন আমি তালা দিইনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলারোয়া থানা পুলিশের এসআই সোলায়মান আক্কাস জানান, ভাড়ার ব্যাপারে মাদরাসা কমিটির সভাপতি একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সেই ব্যাপারে আমি উভয় পক্ষের কথা শুনেছি। আশা করছি দ্রুত সমাধান হবে বিষয়টি।

আকরামুল ইসলাম/এএম/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।