টাকা ফেরত চাওয়ায় ধর্ষণ মামলা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ০৯:৩০ পিএম, ০৪ এপ্রিল ২০১৮

বিদেশে পাঠাতে না পারায় গাইবান্ধায় ভুয়া আদম ব্যবসায়ীর কাছে নিজের পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে তার মেয়ের দায়ের করা ধর্ষণের মামলার আসামি হয়েছেন দুই পাওনাদার।

বুধবার দুপুরে গাইবান্ধা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার কামারপাড়া ইউনিয়নের কেশালিডাঙ্গা গ্রামের ভুট্টু মিয়া ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত ধোপাডাঙ্গা গ্রামের আবু হানিফ।

লিখিত বক্তেব্যে ভুট্টু মিয়া ও আবু হানিফ উল্লেখ করেন, পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে আমরা হয়রানিমূলক মিথ্যা ধর্ষণ মামলার আসামি হয়েছি। ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি ভুট্টু মিয়ার কাছ থেকে ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা, আবু হানিফকে সৌদিআরবে পাঠানোর কথা বলে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের উত্তর ধোপাডাঙ্গা গ্রামের মুকুল মিয়াকে ইরাক পাঠানোর কথা বলে ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার কামারপাড়া ইউনিয়নের কেশালিডাঙ্গা গ্রামের শহিদুল ইসলাম।

বিদেশ পাঠাতে না পারায় ওই তিন ব্যক্তি শহিদুল ইসলামের কাছে টাকা দাবি করলে ভুট্টু মিয়াকে একই বছরের ৬ ডিসেম্বর, আবু হানিফকে ১৭ ডিসেম্বর ও মুকুল মিয়াকে পৃথক তিনটি হিসাব নম্বরের চেক দেন।

তারা ব্যাংকে ওই চেক নিয়ে দেখেন সেই হিসাব নম্বরে কোনো টাকা নেই। পরে ভুট্টু মিয়া চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি, আবু হানিফ ২৩ জানুয়ারি ও ৪ মার্চ শহিদুল ইসলামের নামে চেক ডিজঅনারের তিনটি মামলা করেন।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ধর্ষণের অভিযোগ এনে গত ১ এপ্রিল ভুট্টু মিয়া ও আবু হানিফের নামে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন শহিদুল ইসলামের মেয়ে।

এরপর থেকে ভুট্টু মিয়া, আবু হানিফ ও মুকুল মিয়াকে নানানভাবে হয়রানি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ওই মামলা প্রত্যাহার এবং টাকা ফেরতের দাবি করেন প্রতারিত ব্যক্তিরা।

একইসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে প্রতিকারসহ অবিলম্বে ওই ভুয়া আদম ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

রওশন আলম পাপুল/এএম/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।