ফতুল্লায় আগুনে ৬০ ঘর পুড়ে ছাই

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৫:৩৭ পিএম, ০৫ এপ্রিল ২০১৮

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অগ্নিকাণ্ডে জুটের গোডাউনসহ ৬০টি বসত ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ফতুল্লার কায়েমপুর এলাকার ষাটবাড়ি বস্তিতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কহিনুর বেগম বলেন, ঘরে আমার টাকা, স্বর্ণালংকার, চাল-ডাল, আসবাবপত্র সবই ছিল। এখন পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই নেই।

ওই বস্তির জাহাঙ্গীরের ছেলে স্বাধীন জানান, তার বড় ভাই সোনাহারের ঘরে প্রথমে টেলিভিশনে আগুন ধরে। এ থেকে মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ফলে কেউ ঘর থেকে কিছুই বের করতে পারেনি।

ক্ষতিগ্রস্ত শারমিন বেগম বলেন, আমার স্বামী সোলেমান ও দুই সন্তান নিয়ে একটি জুটের গোডাউন দিয়েছি। এ গোডাউনের এক পাশে পরিবারের সকলে থাকি এবং জুট কিনে তা বাছাই করে বিক্রি করি। গোডাউনের মধ্যে একটি ভ্যান, একটি রিকশা, কয়েক লাখ টাকার জুট, জুট বিক্রির টাকা, স্বর্ণালংকার, চাল, ডাল, রান্না করা খাবার ও আসবাবপত্রসহ সবকিছুই ছিল। হঠাৎ আগুনের তাপ গায়ে এসে লাগে। এতে দৌড়ে গোডাউন থেকে বাহিরে বের হই। এরপর আর গোডাউন খুজে পাইনি। আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

শাহীন মিয়া জানান, একটি গোডাউন ভাড়া নিয়ে সেখানে দেড় লাখ টাকার জুট ক্রয় করে রেখেছি। এর মধ্যে থেকে ১০ হাজার টাকার জুট ক্রয় করে গোডাউনের টেবিলের ড্রয়ারে রেখেছি। আগুনের তাপ পেয়ে বের হয়েছি। এরপর আর কিছুই খুঁজে পাইনি। সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

শাহীনের মা ময়না বেগম জানান, এই বস্তিটি ষাটবাড়ি নামে পরিচিত। আবার কেউ কাজীর বাড়ি নামে চিনে। এখানে ৬০টি ঘর রয়েছে। এরমধ্যেই প্রায় ২০টি জুটের গোডাউন আছে। আর জুটের কারণে আগুন দীর্ঘ সময় নিয়ে জ্বলেছে।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মো. মামুনর রশিদ বলেন, দুপুর ১২টায় বস্তির একটি ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরে নারায়ণগঞ্জ মন্ডলপাড়া ফায়ার সার্ভিসের দুটি ও হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট পৌনে ১ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে- রান্না ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। আগুনে গোডাউনসহ অর্ধশতাধিক ঘর পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এছাড়াও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

শাহাদাত হোসেন/আরএআর/পিআর