গোবিন্দগঞ্জে ৬ ‘জিনের বাদশা’ গ্রেফতার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ০৯:০৫ পিএম, ০৫ এপ্রিল ২০১৮

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের রামনাথপুর গ্রাম থেকে ‘জিনের বাদশা’ চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে গাইবান্ধা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান মিয়া সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

গ্রেফতাররা হলেন- রামনাথপুর গ্রামের মো. জয়নালের ছেলে মো. রাহেনুর (২১), মো. জয়েন উদ্দিনের ছেলে মো. আমিনুল ইসলাম (২০), মো. বুদু মিয়ার ছেলে মো. সিরাজুল ইসলাম সুমন (১৯), মো. ময়জাল হোসেনের ছেলে মো. রবিউল ইসলাম (১৭), মো. শহিদুল ইসলামের ছেলে মো. সাগর মন্ডল (১৭) ও মো. নবীরের ছেলে মো. লাভিস (১৫)।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান মিয়া বলেন, প্রথমে ‘জিনের বাদশা’ পরিচয়ধারী এসব প্রতারক চক্রের সদস্যরা ১০০ মোবাইল নম্বর বাছাই করে। তারপর গলার স্বর পরিবর্তন করে ভূতুরে পরিবেশ সৃষ্টি করে সেসব মোবাইল নম্বরে কল দিয়ে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে বিভিন্ন কথা বলে। দুর্বলচিত্তের মানুষরা বিষয়টি বিশ্বাস করে ‘জিনের বাদশার’ এই অভিনব ফাঁদে পা দেয়।

এরপর ‘জিনের বাদশা’ পরিচয়দানকারী সদস্যরা কিছু জিনিসের নাম বলে একটি নির্দিষ্ট স্থানে সেসব রাখা আছে বলে জানায় ফাঁদে পা দেয়া এসব মানুষগুলোকে। পরে সহজ-সরল এসব মানুষ ওই নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে আগেই নাম বলে দেয়া সেসব জিনিসপত্র দেখতে পেয়ে ‘জিনের বাদশাকে’ বিশ্বাস করে।

Gaibandha

তিনি আরও বলেন, প্রকৃতপক্ষে প্রতারক চক্রের এই সদস্যরা ওই নির্দিষ্টস্থানে গিয়ে আগেই নাম বলে দেয়া সেসব জিনিসপত্র রেখে আসে। পরে ফাঁদে ফেলা এসব মানুষগুলোর কাছে স্বল্প অর্থ দাবি করে যা মোবাইলে বিকাশের মাধ্যমে প্রতারক চক্রের সদস্যরা হাতে পায়। আবারও তাদেরকে অন্য কোথাও মূল্যবান ধনরত্ন আছে জানিয়ে মোটা অংকের অর্থ দাবি করে প্রতারকরা।

এরপর সেই মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার পর ‘জিনের বাদশার’ প্রতারক চক্রের এ দলটি মোবাইল নম্বর বন্ধ করে রাখে ও সেসব মোবাইল নম্বরগুলোর কল ব্লক করে রাখে। পরে প্রতারণা ফাঁদে পা দেয়া মানুষগুলো সেস্থানে গিয়ে আর কিছুই পায় না। আর মানুষ এভাবেই ‘জিনের বাদশার’ প্রতারণার শিকার হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বুধবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দলনেতাসহ ‘জিনের বাদশার’ এ দলটিকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছে থেকে এ কাজে ব্যবহৃত কাঠের ছাঁছ, সিসা, কথিত স্বর্ণের পুতুল, ড্রিল মেশিন, কেমিক্যাল, রং ও তুলি জব্দ করা হয়েছে। তাদেরকে রিমান্ডে নেয়া হবে।

এ সময় সহকারী পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) মো. মইনুল হক, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. শাহরিয়ার, গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রওশন আলম পাপুল/আরএআর/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।