ঘরের দরজায় বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ০৯:৪২ এএম, ০৯ এপ্রিল ২০১৮

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের ভানুবিল গ্রামে প্রতিপক্ষের দ্বারা অবরুদ্ধ হয়ে আছে এক প্রবাসীর পরিবার। পাকা ঘরের সিঁড়িতে বাঁশের বেড়া বসিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। তাদের হুমকির মুখে অবরুদ্ধ পরিবারটি ইউপি চেয়ারম্যান ও থানায় অভিযোগ দেয়ার চারদিনেও বেড়া অপসারণ করা সম্ভব হয়নি।

গত ৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় গ্রামের মাসুক মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অবরুদ্ধ থাকায় পরিবারটি মানবেতর জীবন যাপন করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভানুবিল গ্রামের প্রবাসী মাসুক মিয়ার পাকা দেয়ালের ঘর থেকে বের হওয়ার সিঁড়ি জুড়ে সম্মুখভাগে বাঁশের বেড়া দিয়ে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

মাসুক মিয়ার ছেলে বদরুল ইসলাম বলেন, আমি বাড়িতে না থাকার সুযোগে গ্রামের আপ্তাব আলীর ছেলে গণি মিয়া নিজের লোকবল নিয়ে জোরপূর্বক এই সিঁড়ি জুড়ে পুরো উঠানে বাঁশের বেড়া স্থাপন করেছেন। এরপর উল্টো আবার আমাকে মারধর করার হুমকি দিচ্ছেন। ফলে সন্তানদের নিয়ে আমরা ঘর থেকে বের হতে পারছি না। বিষয়টি নিয়ে আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও কমলগঞ্জ থানায় অভিযোগ দেয়ার চারদিন পার হলেও বেড়া অপসারণ করা হয়নি।

আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যানের অনুরোধে স্থানীয় ইউপি সদস্য মনিন্দ্র কুমার সিংহ এসে গণি মিয়াকে বেড়া অপসারণের কথা জানালেও গণি মিয়া সেটা করতে রাজি হননি।

vanubil--(2)

তবে অভিযোগের বিষয়ে গণি মিয়া বলেন, আমার নিজস্ব ভূমিতে বেড়া দিলেও মাসুক মিয়ার ঘরের সিঁড়ির সম্মুখে কোনো বেড়া দেইনি। ঘরের সিঁড়িতে মাসুক মিয়ার লোকজন বেড়া দিয়েছেন। মাসুক মিয়া আমার ভূমি দখল করে নেয়ায় আমি কমলগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মনিন্দ্র কুমার সিংহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের পরামর্শে সরেজমিনে গিয়ে গণি মিয়াকে ঘরের সিঁড়ি থেকে বেড়া সরাতে অনুরোধ করলেও তিনি রাজি হননি।

গণি মিয়ার অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা কমলগঞ্জ থানার এসআই কৃষ্ণমোহন দেবনাথ বলেন, সরেজমিনে গিয়ে নিজে বেড়া অপসারণ করে দিয়েছি। আবার বেড়া দেয়া হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অপরদিকে মাসুক মিয়ার ছেলে বদরুল ইসলামের অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা কমলগঞ্জ থানার এএসআই সুশেন দাস বলেন, বেড়া সরিয়ে দিতে গণি মিয়ার লোকদেরকে বলেছি।

এদিকে সাংবাদিকদের সরেজমিন পরিদর্শনের পর এ পরিস্থিতির খবর পেয়ে রোববার সন্ধ্যায় আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবদাল হোসেন সরেজমিন ভানুবিল গ্রামে এসে প্রবাসী মাসুক মিয়ার বসতঘরের সামনে বেড়া তুলে নেন এবং বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধানের আশ্বাস দেন।

রিপন দে/এফএ/জেআইএম