রিপন হত্যার নেপথ্যে ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বিতা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ০৪:৩১ পিএম, ১০ এপ্রিল ২০১৮ | আপডেট: ০৬:০৮ পিএম, ১০ এপ্রিল ২০১৮

মৌলভীবাজারে ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জেরেই রিপন মিয়াকে (২২) হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে মৌলভীবাজার মডেল থানায় সাংবাদিকদের প্রেস ব্রিফিং করে এ তথ্য জানায় পুলিশ।

ইতোমধ্যে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ৩ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দিতে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। নিহত রিপন মিয়া মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খাইলকুরা ইউনিয়নের পাগুরিয়া গ্রামের কাছর মিয়ার ছেলে।

গ্রেফতাররা হলেন- সদর উপজেলার পাগুরিয়া গ্রামের মৃত মধু মিয়ার ছেলে মিনহাজ মিয়া, উপজেলার মিরপুর এলাকার শেখ মো. মদনের ছেলে শেখ আবেদ আহমদ ও জগৎপুর এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে জাহেদ আহমদ আলাল।

প্রেস ব্রিফিংয়ে মৌলভীবাজার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. রাশেদুল ইসলাম জানান, গত (৩১ মার্চ) রাতে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আখাইলকুরা ইউনিয়নের পাগুরিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী রিপন মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় অজ্ঞাতদের আসামি করে রিপনের বাবা কাছর মিয়া মৌলভীবাজার মডেল থানায় একটি মামলা করেন। কিন্তু ব্যবসায়ী রিপন হত্যাকাণ্ডে কোনো ক্লু ছিল না। কেন এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে জানাতে পারেনি তার পরিবারও।

তবে ১ সপ্তাহ অনুসন্ধান চালিয়ে আমরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করেছি। তারা অকপটে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয় স্বীকার করেছেন। এর মধ্যে মিনহাজ মিয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

এএসপি মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, নিহত রিপন সমবায় ব্যবসা করতেন। সবাই নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা তার কাছে জমা রেখে সপ্তাহে একবার লটারির মাধ্যমে একজন বিজয়ীকে দেয়া হতো। একই কাজ করতেন মিনহাজ ও তার সঙ্গীরা। তাদের দুইজনের মধ্যে রিপনের জনপ্রিয়তা ছিল বেশি। সেই ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মিনহাজ পিছিয়ে পড়ে এবং রিপনকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে।

গ্রেফতারকৃতরা হত্যার নকশা আঁকেন। ৩১ মার্চ রাতে রিপনের দোকানে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করেন মিনহাজ ও তার সঙ্গীয়রা।

পুলিশ যাতে ধারণা করে চুরি করতে এসে চোরের দল রিপনকে হত্যা করেছে সেজন্য ওদিন রাতে আশপাশের কয়েকটি দোকানের তালা ভেঙে চুরি করে তারা। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কিনা সে বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান এএসপি মো. রাশেদুল ইসলাম।

রিপন দে/এএম/পিআর