ওমর-জহিরুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের তদন্ত শুরু

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কিশোরগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৫:৫৫ পিএম, ১২ এপ্রিল ২০১৮

কিশোরগঞ্জ সদর থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ওমর সিদ্দিক ফারুকী ওরফে ওমর আলী এবং জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট জহিরুল হকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

তদন্ত কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান অন্য দুইজন সহকারীকে নিয়ে বুধ ও বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জ সার্কিট হাউজে অবস্থান করে দুইদিন ব্যাপী আনুষ্ঠানিক তদন্ত কাজ পরিচালনা করেন।

এর আগে ওমর আলী ও অ্যাডভোকেট জহিরুল হকের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনালের সহকারী পুলিশ সুপার পদ মর্যাদার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমানকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়েরকৃত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কাঠাবাড়িয়া বড় দীঘিরপাড় এলাকার মৃত কিতাব আলীর ছেলে ওমর আলী ও তার সঙ্গীয় ৯/১০ জন রাজাকার ১৯৭১ সালের ১৭ নভেম্বর সদর উপজেলার কাঠাবাড়িয়ার দীঘিরপাড় গ্রামের যুগেশ চন্দ্র দত্ত, বিনোদ বিহারী রায়, সুধীর চন্দ্র দাস, সুধাংশু দাস ও আরও দুইজনসহ ছয় ব্যক্তিকে বাড়ি থেকে ধরে পিঠমোড়া করে বেঁধে পাক বাহিনীর ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহৃত কিশোরগঞ্জ শহরের ডাক বাংলোয় নিয়ে যায়। সেখানে তাদের হত্যা করা হয়।

একইভাবে ১৯৭১ সালের ১৫ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলার শ্যাম রায়ের বাজার এলাকা থেকে আবদুল বাছিরের ছেলে আবদুর রাজ্জাক ওরফে হেলু মিয়াকে ধরে নিয়ে পিঠমোড়া করে বেঁধে পার্শ্ববর্তী ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার কালীগঞ্জ ব্রিজে নিয়ে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করেন। এছাড়াও অভিযোগে ওমর আলীর বিরুদ্ধে সদর উপজেলার লতিবাবাদ ও রশিদাবাদ ইউনিয়নসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, নির্যাতন-ধর্ষণের একাধিক ঘটনার কথা উল্লেখ আছে।

কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল এলাকার মৃত আবদুল হামিদ মুন্সীর ছেলে আবদুল হাকিম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়েরকৃত অভিযোগে উল্লেখ করেন, তিনি গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞ কিশোরগঞ্জ সদর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে এ ব্যাপারে অভিযোগ দায়ের করলে বিজ্ঞ আদালত অত্র মামলা গ্রহণ করার এখতিয়ার নেই বলে জানান। তাই তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের শরণাপন্ন হন।

অভিযোগকারী আবদুল হাকিম বলেন, সরকারি তালিকায় রাজাকার হিসেবে ওমর আলীর নাম থাকলেও তিনি সদর থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও প্রভাবশালী ব্যক্তি। আর এ কারণে তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দায়ের নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিলেন। কিন্তু যখন মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রভাবশালী অনেক ব্যক্তির সাজা হয়, তখন আমি এ অভিযোগ করার সাহস পাই।

অপরদিকে তাড়াইল উপজেলার সাচাইল গ্রামের লুৎফর রহমান ট্রাইব্যুনালে দায়েরকৃত অভিযোগে উল্লেখ করেন, কিশোরগঞ্জ মহকুমা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ভাষা সৈনিক, গুরুদয়াল সরকারি কলেজের সাবেক জিএস ও তাড়াইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহীদ এ বি মহিউদ্দিনকে ১৯৭১ সালে নির্মমভাবে হত্যা করেন আলবদর কমান্ডার অ্যাডভোকেট জহিরুল হক। এছাড়া তিনি উপজেলার উত্তর সেকান্দরনগর গ্রামের মনোরঞ্জন বাবুরও হত্যাকারী। এছাড়াও অভিযুক্ত জহিরের বিরুদ্ধে ধলার তসুদ্দুক হোসেন চৌধুরী ও ডা. আতিকুর রহমান চৌধুরীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে।

এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার দুপুরে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ পর্যন্ত ওমর ফারুকের যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে ১৩ জন এবং অ্যাডভোকেট জহিরুল হকের যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে ১০ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

নূর মোহাম্মদ/আরএআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।