মৌলভীবাজারে ডিজেল সংকট চরমে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ০৯:০০ পিএম, ২০ এপ্রিল ২০১৮

মৌলভীবাজারে চরম ডিজেল সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় অর্ধেক সরবরাহ থাকায় বিপাকে পড়েছে পেট্রলপাম্প ও চা বাগান কর্তৃপক্ষ এবং কৃষক ও ডিজেলচালিত যানবাহনের মালিকরা। দেশে পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও সরবরাহ না থাকায় ক্ষুব্দ এ এলাকার ভুক্তভোগীরা। বিগত তিন মাস ধরে চাহিদা মত ডিজেল দিতে পারছে না শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত জেলার একমাত্র পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেলের ডিপু।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নভেম্বর থেকে মে পর্যন্ত এই সময়ে সিলেট বিভাগে ডিজেলের চাহিদা অনেকগুন বেড়ে যায়। আর বিগত তিন মাস ধরেই এ জেলার ডিজেল প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ডিপুতে দেখা দিয়েছে ডিজেলের ঘাটতি। আর এর মূল কারণ চট্টগ্রামস্থ পেট্টোলিয়াম কর্পোরেশন থেকে মৌলভীবাজারে পরিবহনের জন্য তেলবাহী ট্রেনের সংকট।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল কোম্পানির ডিপু থেকে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কিছু অংশের ডিজেলের চাহিদা পূরণ করা হয়। প্রতি সপ্তাহে চাহিদা প্রায় ৭০ লাখ লিটার ডিজেল। কিন্তু সেখানে বর্তমানে সপ্তাহে ৩৩ থেকে ৪০ লাখ লিটার ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। চাহিদার অর্ধেক ডিজেল না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন এ অঞ্চলের পেট্টল পাম্প মালিক, চা বাগান মালিক, ডিজেল চালিত যানবাহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং ধান মাড়াইয়ের অপেক্ষায় থাকা বোরো চাষিরা।

বর্তমানে প্রতিদিন শ্রীমঙ্গলে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল কোম্পানির ডিপুর সামনে বিভিন্ন পেট্টল পাম্প ও এজেন্টের গাড়িগুলো তেলের জন্য লাইন ধরে থাকে। কিন্তু সরবরাহ না থাকায় কেউ কেউ তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যায়।

তেল কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকারের কাছে পর্যাপ্ত ডিজেল মজুদ থাকলেও এ অঞ্চলে সংকটের কারণ তেলবাহী ট্রেনের (রেক)। সপ্তাহে দুটি রেকের পরিবর্তে আসে মাত্র একটি রেক। ফলে বিগত ৩ মাস ধরে এ সংকট সৃষ্টি হয়। এর একমাত্র সমাধান সপ্তাহে কমপক্ষে দুইবার রেলওয়ের তেলবাহীগাড়ি (রেক) আসতে হবে। আগে যেখানে সপ্তাহে দুটি গাড়ি আসতো এখন আসে একটি। যা এ দুই জেলার মূল চাহিদা প্রায় ৭০ লাখ লিটারের অর্ধেক।

মৌলভীবাজার পৌর শহরের মেসার্স সাজ্জাদ ফিলিং স্টেশনের সত্ত্বাধিকারী মনোহার আহমদ জাগো নিউজকে জানান, শুধু মৌলভীবাজার নয় সিলেট জুড়েই ডিজেলের সংকট। ডিপু থেকে চাহিদা মত তেল না পাওয়ায় আমরা ব্যবসায়ীকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

ডিজেল ব্যবসায়ী সনজিত দেব জাগো নিউজকে জানান, তেল সংকটের মূলে শ্রীমঙ্গলে পর্যাপ্ত ডিজেল না আসা।

এ ব্যাপারে মেঘনা ডিপুর ব্যবস্থাপক মো. সাহিদ হোসেন জানান, প্রায় ৭০ লাখ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন। এর মধ্যে তারা পাচ্ছেন ৩৫ থেকে ৪০ লাখ লিটার। মাঝেমাঝে এ জাতীয় সংকট দেখা দিলে তারা সিলেট গ্যাস ফিল্ডের রসিদপুর ও কৈলাশ টিলা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসের ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডিপু থেকে সংগ্রহ করে থাকেন। কিন্তু বর্তমানে এ সোর্স থেকেও তারা চাহিদা মতো ডিজেল পাচ্ছেন না।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (চট্টগ্রাম) সৈয়দ ফারুক হোসেন জানান, ডিলাররা যেভাবে তেল নিতে চায় আমরা সেভাবেই পরিবহন করি। পরিবহন সংকটের কথা তারা আমাদের কখনও বলেনি।

রিপন দে/আরএআর/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।