ডোমারে বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে শিশুর মৃত্যু, দুই শিশু হাসপাতালে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী
প্রকাশিত: ০৮:৩২ পিএম, ১৬ মে ২০১৮ | আপডেট: ০৮:৩৮ পিএম, ১৬ মে ২০১৮
ডোমারে বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে শিশুর মৃত্যু, দুই শিশু হাসপাতালে
ছবি-প্রতীকী

ডোমার উপজেলার বামুনিয়া ইউনিয়নে বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে জড়িয়ে সাব্বির রহমান (৮) নামের দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্র নিহত হয়েছে। এ সময় আহত আরও দুই শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে ঘটনাটি ওই ইউনিয়নের কাচারিপাড়া গ্রামে ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, ১০ মে রাতে জেলার ডোমার ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টির সময় বিক্ষিপ্তভাবে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে।

দুপুরে ওই গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে সাব্বির রহমান (৮), রবিউল ইসলামের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার (৭) ও রবিউল আলমের মেয়ে রুবিনা আক্তার (৭) তাদের বাড়ির পাশে খেলছিল। এ সময় মাটিতে পড়ে থাকা ছেঁড়া তারে হঠাৎ বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হলে সাব্বির বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে পড়ে যায়।

খেলার সাথী সুমাইয়া আক্তার ও রুবিনা তাকে উদ্ধার করতে গেলে তারাও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। উপস্থিত লোকজন তাদেরকে দ্রুত উদ্ধার করে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন।

অপর দুই শিশুর মধ্যে রুবিনা ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও সুমাইয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের চিকিৎসার ভার গ্রহণ করেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. উম্মে ফাতেমা।

এদিকে এলাকাবাসী এ ঘটনার জন্য ডোমার পিডিবিকে দায়ী করে বিচার দাবি করেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রুবিনা আক্তার জানায়, তারা তিনজনই দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। দুপুরে বাড়ির পাশে খেলার সময় সাব্বির মাটিতে পড়ে যায়। সাব্বিরকে উঠাতে গিয়ে তারা দুজনে মাটিতে পড়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আনার আগেই সাব্বিরের মৃত্যু হয়েছে। সুমাইয়াকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছে। শঙ্কামুক্ত অবস্থায় রুবিনার চিকিৎসা চলছে।

ডোমার বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, বামুনিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একজন শিশু নিহতের কথা শুনেছি। কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি এখনও বলতে পারছি না।

জাহেদুল ইসলাম/এমএএস/জেআইএম